দেরিতে হলেও সত্য প্রকাশ্যে আসায় র্যাবের এই সাবেক কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ ও আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমণি। পোস্টে তিনি তাঁর জীবনের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়, আইনি হয়রানি এবং রাষ্ট্রের কাছে কিছু মৌলিক প্রশ্ন তুলে ধরেছেন।
ফেসবুক পোস্টে পরীমণি লেখেন, সাবেক গোয়েন্দা প্রধানের এই স্বীকারোক্তির মাধ্যমে দেশের মানুষ জানতে পারলো যে, বিশেষ মহলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে তাকে অন্যায়ভাবে ও সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
সেই সময়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন:
"পরবর্তীতে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৭ দিনের রিমান্ড টানা ২০ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা আমার জীবনকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত করেছে, তা আল্লাহ আর আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারও পক্ষে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়।"
দীর্ঘদিন ধরে এই ঘটনার ভুক্তভোগী হিসেবে জীবন কাটাচ্ছেন উল্লেখ করে পরীমণি প্রশ্ন তোলেন, একজন সাধারণ নারী শিল্পীর জীবন ও চরিত্রকে যেভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ কে দেবে? রাষ্ট্রীয় সেই সাজানো মামলা থেকে আদালত হয়তো তাকে অব্যাহতি দেবেন, কিন্তু যে মানসিক শান্তি ও সম্মান তিনি হারিয়েছেন, তা কি আর কখনো ফিরে পাবেন? মানুষের মনে তাকে নিয়ে যে বিতর্কিত ধারণা তৈরি করা হয়েছে, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে— এমন প্রশ্নও ছুঁড়ে দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
পরীমণি স্পষ্ট করেছেন যে, এতগুলো দিন পর তিনি কোনো ক্ষোভ বা প্রতিশোধের কথা বলতে চান না। তিনি শুধু সত্য, ন্যায়বিচার এবং মানবিকতার পক্ষে কথা বলতে চান। তিনি বলেন, "রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীকে ব্যবহার করে একজন সাধারণ নারী শিল্পীর জীবনকে যেভাবে বিপর্যস্ত করা হয়েছে, আমি শুধু চাই ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এমন অভিজ্ঞতার শিকার না হন।" রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা যেন ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের মাধ্যমে অটুট থাকে, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
বিগত কঠিন সময়ে যারা কোনো প্রশ্ন না করেই তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন— তাঁর পরিবার, সহকর্মী, বন্ধু, সাংবাদিক এবং অসংখ্য ভক্তদের প্রতি আজীবন গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন পরীমণি।
অতীতের ক্ষত ভুলে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি পোস্টের শেষে লেখেন:
"আমি অতীতের ক্ষত বয়ে বেড়াতে চাই না। আমি মুক্ত আকাশে পরীর মতো করেই উড়তে চাই। আমি বাঁচতে ভালোবাসি আর আমার কাজ, আমার সন্তান, আমার পরিবার এবং আমার দর্শকদের ভালোবাসা নিয়েই আমি বাকি জীবন বাঁচতে চাই।"
পরীমণি বিশ্বাস করেন, সত্যকে কখনো চিরদিন চাপা রাখা যায় না এবং ন্যায়বিচারের পথে হাঁটা কখনো বৃথা যায় না। তিনি নতুন করে ভালো কাজের মাধ্যমে দর্শকদের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
গড় রেটিং: ৫/৫ (১ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
দেরিতে হলেও সত্য প্রকাশ্যে আসায় র্যাবের এই সাবেক কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ ও আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমণি। পোস্টে তিনি তাঁর জীবনের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়, আইনি হয়রানি এবং রাষ্ট্রের কাছে কিছু মৌলিক প্রশ্ন তুলে ধরেছেন।
ফেসবুক পোস্টে পরীমণি লেখেন, সাবেক গোয়েন্দা প্রধানের এই স্বীকারোক্তির মাধ্যমে দেশের মানুষ জানতে পারলো যে, বিশেষ মহলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে তাকে অন্যায়ভাবে ও সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
সেই সময়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন:
"পরবর্তীতে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৭ দিনের রিমান্ড টানা ২০ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা আমার জীবনকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত করেছে, তা আল্লাহ আর আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারও পক্ষে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়।"
দীর্ঘদিন ধরে এই ঘটনার ভুক্তভোগী হিসেবে জীবন কাটাচ্ছেন উল্লেখ করে পরীমণি প্রশ্ন তোলেন, একজন সাধারণ নারী শিল্পীর জীবন ও চরিত্রকে যেভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ কে দেবে? রাষ্ট্রীয় সেই সাজানো মামলা থেকে আদালত হয়তো তাকে অব্যাহতি দেবেন, কিন্তু যে মানসিক শান্তি ও সম্মান তিনি হারিয়েছেন, তা কি আর কখনো ফিরে পাবেন? মানুষের মনে তাকে নিয়ে যে বিতর্কিত ধারণা তৈরি করা হয়েছে, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে— এমন প্রশ্নও ছুঁড়ে দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
পরীমণি স্পষ্ট করেছেন যে, এতগুলো দিন পর তিনি কোনো ক্ষোভ বা প্রতিশোধের কথা বলতে চান না। তিনি শুধু সত্য, ন্যায়বিচার এবং মানবিকতার পক্ষে কথা বলতে চান। তিনি বলেন, "রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীকে ব্যবহার করে একজন সাধারণ নারী শিল্পীর জীবনকে যেভাবে বিপর্যস্ত করা হয়েছে, আমি শুধু চাই ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এমন অভিজ্ঞতার শিকার না হন।" রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা যেন ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের মাধ্যমে অটুট থাকে, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
বিগত কঠিন সময়ে যারা কোনো প্রশ্ন না করেই তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন— তাঁর পরিবার, সহকর্মী, বন্ধু, সাংবাদিক এবং অসংখ্য ভক্তদের প্রতি আজীবন গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন পরীমণি।
অতীতের ক্ষত ভুলে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি পোস্টের শেষে লেখেন:
"আমি অতীতের ক্ষত বয়ে বেড়াতে চাই না। আমি মুক্ত আকাশে পরীর মতো করেই উড়তে চাই। আমি বাঁচতে ভালোবাসি আর আমার কাজ, আমার সন্তান, আমার পরিবার এবং আমার দর্শকদের ভালোবাসা নিয়েই আমি বাকি জীবন বাঁচতে চাই।"
পরীমণি বিশ্বাস করেন, সত্যকে কখনো চিরদিন চাপা রাখা যায় না এবং ন্যায়বিচারের পথে হাঁটা কখনো বৃথা যায় না। তিনি নতুন করে ভালো কাজের মাধ্যমে দর্শকদের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
