এই পরিস্থিতির মধ্যে শেখ হাসিনাকে অবিলম্বে দেশে ফেরার প্রকাশ্য আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। শনিবার (১১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই আহ্বান জানান।
শনিবার দুপুরে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ‘স্বাগতম, শেখ হাসিনা’ শিরোনামে একটি স্ট্যাটাস দেন ড. আসিফ নজরুল। সেখানে তিনি লিখেন:
"অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছিল। বর্তমান বিএনপি সরকারও একই উদ্যোগ নিয়েছে। সরকার বলছে, তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে চায়। অন্যদিকে, শেখ হাসিনাও দেশে ফেরার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। যদি সেটিই সত্য হয়, তাহলে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন? শেখ হাসিনা, আপনি এখনই দেশে ফিরে আসুন।"
আইন উপদেষ্টা তাঁর পোস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শাসনকালের একাধিক বিতর্কিত ও নৃশংস ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ও আদালতের সামনে শেখ হাসিনাকে অনেক প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শত শত মানুষের প্রাণহানির দায় নিয়ে আপনার বক্তব্য কী? আপনার শাসনামলে বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম এবং ‘আয়নাঘর’ নিয়ে আপনার ব্যাখ্যা কী? ব্যাপক দুর্নীতি, অর্থ পাচারের অভিযোগ এবং দীর্ঘ সময় দেশের মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রাখার কারণ কী? কেন আমরা ভারতের আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিলাম?
আসিফ নজরুল স্পষ্ট করে বলেন, "এসব প্রশ্নের উত্তর ইতিহাসও খুঁজবে, আদালতও শুনতে চাইবে।"
জুলাই আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনা তাঁর পরিবারের সদস্যদের আগেই বিদেশে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন উল্লেখ করে আইন উপদেষ্টা বলেন, তাঁর সরকারের রাজনৈতিক ও আইনি ভুলের চরম খেসারত দিতে হচ্ছে আওয়ামী লীগের অসংখ্য সাধারণ নেতা-কর্মীকে। তারা এখনো অনিশ্চয়তা ও মামলার মুখোমুখি।
পোস্টের শেষাংশে ড. আসিফ নজরুল শেখ হাসিনাকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন:
"যদি সত্যিই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তাহলে আর বিলম্ব করবেন না। ফিরে আসুন, আইনের মুখোমুখি হোন এবং আদালতে আপনার অবস্থান তুলে ধরুন। একইসঙ্গে যদি দেশে ফেরার বাস্তব পরিকল্পনা আর না থাকে, তাহলে বারবার ফেরার ঘোষণা দিয়ে নিজের দলের সাধারণ নেতা-কর্মীদের বিভ্রান্ত বা অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি মধ্যে ফেলবেন না।"
চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক মাঠে এর আগেও একাধিকবার গুঞ্জন উঠেছে। তবে এবারই প্রথম তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের কাছে আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করার একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করলেন। ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ক্ষমতার সমীকরণে এই ঘোষণা নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ
এই পরিস্থিতির মধ্যে শেখ হাসিনাকে অবিলম্বে দেশে ফেরার প্রকাশ্য আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। শনিবার (১১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই আহ্বান জানান।
শনিবার দুপুরে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ‘স্বাগতম, শেখ হাসিনা’ শিরোনামে একটি স্ট্যাটাস দেন ড. আসিফ নজরুল। সেখানে তিনি লিখেন:
"অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছিল। বর্তমান বিএনপি সরকারও একই উদ্যোগ নিয়েছে। সরকার বলছে, তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে চায়। অন্যদিকে, শেখ হাসিনাও দেশে ফেরার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। যদি সেটিই সত্য হয়, তাহলে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন? শেখ হাসিনা, আপনি এখনই দেশে ফিরে আসুন।"
আইন উপদেষ্টা তাঁর পোস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শাসনকালের একাধিক বিতর্কিত ও নৃশংস ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ও আদালতের সামনে শেখ হাসিনাকে অনেক প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শত শত মানুষের প্রাণহানির দায় নিয়ে আপনার বক্তব্য কী? আপনার শাসনামলে বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম এবং ‘আয়নাঘর’ নিয়ে আপনার ব্যাখ্যা কী? ব্যাপক দুর্নীতি, অর্থ পাচারের অভিযোগ এবং দীর্ঘ সময় দেশের মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রাখার কারণ কী? কেন আমরা ভারতের আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিলাম?
আসিফ নজরুল স্পষ্ট করে বলেন, "এসব প্রশ্নের উত্তর ইতিহাসও খুঁজবে, আদালতও শুনতে চাইবে।"
জুলাই আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনা তাঁর পরিবারের সদস্যদের আগেই বিদেশে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন উল্লেখ করে আইন উপদেষ্টা বলেন, তাঁর সরকারের রাজনৈতিক ও আইনি ভুলের চরম খেসারত দিতে হচ্ছে আওয়ামী লীগের অসংখ্য সাধারণ নেতা-কর্মীকে। তারা এখনো অনিশ্চয়তা ও মামলার মুখোমুখি।
পোস্টের শেষাংশে ড. আসিফ নজরুল শেখ হাসিনাকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন:
"যদি সত্যিই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তাহলে আর বিলম্ব করবেন না। ফিরে আসুন, আইনের মুখোমুখি হোন এবং আদালতে আপনার অবস্থান তুলে ধরুন। একইসঙ্গে যদি দেশে ফেরার বাস্তব পরিকল্পনা আর না থাকে, তাহলে বারবার ফেরার ঘোষণা দিয়ে নিজের দলের সাধারণ নেতা-কর্মীদের বিভ্রান্ত বা অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি মধ্যে ফেলবেন না।"
চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক মাঠে এর আগেও একাধিকবার গুঞ্জন উঠেছে। তবে এবারই প্রথম তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের কাছে আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করার একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করলেন। ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ক্ষমতার সমীকরণে এই ঘোষণা নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
