আন্তর্জাতিক ফুটবলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর ভক্তদের মাঝে ট্রোল বা কাদা ছোড়াছুড়ি নতুন কিছু নয়। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ট্রোলিং এক ভিন্ন মাত্রা ধারণ করেছে, যা নিয়ে ফুটবল প্রেমীদের একাংশের মাঝে ক্ষোভ ও হাসির খোরাক দুই-ই তৈরি হচ্ছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি কার্ড বা ছবি বেশ ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের ২০১৯ সালের কোপা আমেরিকা জয়ের উদযাপনের একটি দৃশ্য। ছবিটির নিচে থাকা ক্যাপশনটি মূলত চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার সমর্থকদের দিকে ইঙ্গিত করে তৈরি করা হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ছবিটিতে লেখা রয়েছে:
"যে দল ২৮ বছর ধরে ট্রফির স্বাদ পায়নি, তাদের মুখে ৭ বছরের ট্রফি খরা নিয়ে ট্রল, বড্ড বেমানান।"
ফুটবল ইতিহাসের খতিয়ান ঘেঁটে দেখা যায়, আর্জেন্টিনা ফুটবল দল ১৯৯৩ সালের কোপা আমেরিকা জেতার পর দীর্ঘ ২৮ বছর কোনো বড় আন্তর্জাতিক ট্রফি জিততে পারেনি। ২০২১ সালে এসে তারা সেই খরা কাটায়। অন্যদিকে, ব্রাজিল ২০১৯ সালে কোপা আমেরিকা জেতার পর ২০২৬ সাল পর্যন্ত বড় কোনো টুর্নামেন্টের শিরোপা নিজেদের ঘরে তুলতে পারেনি—যার ব্যবধান প্রায় ৭ বছর।
আর্জেন্টাইন সমর্থকরা যখন ব্রাজিলের এই সাম্প্রতিক '৭ বছরের ট্রফি খরা' নিয়ে ট্রোল করতে শুরু করে, ঠিক তখনই ব্রাজিলের সমর্থকরা তাদের পুরোনো '২৮ বছরের ট্রফি খরা'র ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে এই পাল্টা জবাব বা ট্রোলটি তৈরি করে।
এই পোস্টটি শেয়ার হওয়ার পর থেকেই কমেন্ট বক্সে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে কথার লড়াই জমে উঠেছে।
ব্রাজিল সমর্থকদের দাবি: ২৮ বছর ট্রফি ছাড়া থাকার পর মাত্র কয়েক বছরের সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে ব্রাজিলের মতো ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ট্রফি খরা নিয়ে ট্রোল করা নিতান্তই হাস্যকর এবং 'বেমানান'।
আর্জেন্টিনা সমর্থকদের পাল্টা যুক্তি: অতীত যা-ই হোক না কেন, সাম্প্রতিক সময়ে (২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে) বিশ্বকাপসহ ব্যাক-টু-ব্যাক ট্রফি জিতে তারাই এখন ফুটবল বিশ্বে ছড়ি ঘোরাচ্ছে, তাই বর্তমান পারফরম্যান্সের নিরিখে ট্রোল করার অধিকার তাদের রয়েছে।
ফুটবল মাঠে দলগুলোর লড়াই যেমন রোমাঞ্চ ছড়ায়, মাঠের বাইরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্তদের এই বুদ্ধিদীপ্ত ও আক্রমণাত্মক ট্রোলিং ফুটবল উন্মাদনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। তবে ভক্তদের এই চিরন্তন রেষারেষি যেন কেবলই সুস্থ বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, সেটাই সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ পূর্বাহ্ণ
আন্তর্জাতিক ফুটবলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর ভক্তদের মাঝে ট্রোল বা কাদা ছোড়াছুড়ি নতুন কিছু নয়। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ট্রোলিং এক ভিন্ন মাত্রা ধারণ করেছে, যা নিয়ে ফুটবল প্রেমীদের একাংশের মাঝে ক্ষোভ ও হাসির খোরাক দুই-ই তৈরি হচ্ছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি কার্ড বা ছবি বেশ ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের ২০১৯ সালের কোপা আমেরিকা জয়ের উদযাপনের একটি দৃশ্য। ছবিটির নিচে থাকা ক্যাপশনটি মূলত চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার সমর্থকদের দিকে ইঙ্গিত করে তৈরি করা হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ছবিটিতে লেখা রয়েছে:
"যে দল ২৮ বছর ধরে ট্রফির স্বাদ পায়নি, তাদের মুখে ৭ বছরের ট্রফি খরা নিয়ে ট্রল, বড্ড বেমানান।"
ফুটবল ইতিহাসের খতিয়ান ঘেঁটে দেখা যায়, আর্জেন্টিনা ফুটবল দল ১৯৯৩ সালের কোপা আমেরিকা জেতার পর দীর্ঘ ২৮ বছর কোনো বড় আন্তর্জাতিক ট্রফি জিততে পারেনি। ২০২১ সালে এসে তারা সেই খরা কাটায়। অন্যদিকে, ব্রাজিল ২০১৯ সালে কোপা আমেরিকা জেতার পর ২০২৬ সাল পর্যন্ত বড় কোনো টুর্নামেন্টের শিরোপা নিজেদের ঘরে তুলতে পারেনি—যার ব্যবধান প্রায় ৭ বছর।
আর্জেন্টাইন সমর্থকরা যখন ব্রাজিলের এই সাম্প্রতিক '৭ বছরের ট্রফি খরা' নিয়ে ট্রোল করতে শুরু করে, ঠিক তখনই ব্রাজিলের সমর্থকরা তাদের পুরোনো '২৮ বছরের ট্রফি খরা'র ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে এই পাল্টা জবাব বা ট্রোলটি তৈরি করে।
এই পোস্টটি শেয়ার হওয়ার পর থেকেই কমেন্ট বক্সে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে কথার লড়াই জমে উঠেছে।
ব্রাজিল সমর্থকদের দাবি: ২৮ বছর ট্রফি ছাড়া থাকার পর মাত্র কয়েক বছরের সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে ব্রাজিলের মতো ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ট্রফি খরা নিয়ে ট্রোল করা নিতান্তই হাস্যকর এবং 'বেমানান'।
আর্জেন্টিনা সমর্থকদের পাল্টা যুক্তি: অতীত যা-ই হোক না কেন, সাম্প্রতিক সময়ে (২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে) বিশ্বকাপসহ ব্যাক-টু-ব্যাক ট্রফি জিতে তারাই এখন ফুটবল বিশ্বে ছড়ি ঘোরাচ্ছে, তাই বর্তমান পারফরম্যান্সের নিরিখে ট্রোল করার অধিকার তাদের রয়েছে।
ফুটবল মাঠে দলগুলোর লড়াই যেমন রোমাঞ্চ ছড়ায়, মাঠের বাইরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্তদের এই বুদ্ধিদীপ্ত ও আক্রমণাত্মক ট্রোলিং ফুটবল উন্মাদনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। তবে ভক্তদের এই চিরন্তন রেষারেষি যেন কেবলই সুস্থ বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, সেটাই সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা।
