শনিবার (১১ জুলাই) 'ডিএমসি ডে-২০২৬' এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে ঢামেকের প্রত্যেক চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছিলেন। সেদিন আহত ও শহীদ মানুষগুলোর পাশে তারা দাঁড়িয়েছিলেন এবং সর্বোচ্চ সেবা দিয়েছিলেন।”
চিকিৎসকদের মহান পেশার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ডাক্তাররা জনগণের পরম বন্ধু ও ভরসার জায়গা। মানুষ বিপদে পড়লে ডাক্তারের কাছে যায়। চিকিৎসকরাই রোগ-শোকে কাতর মানুষের পাশে দাঁড়ান। এই কথাটি আমি আমার নিজের জীবনেও গভীরভাবে উপলব্ধি করেছি।”
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, “দেশের প্রখ্যাত চিকিৎসকরাই বহু বছর ধরে আমার মায়ের চিকিৎসা করেছেন। মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত তারা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও মানবিকতার সঙ্গে তার পাশে ছিলেন। বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হলেও আমার বিশ্বাস ছিল, উন্নত যন্ত্রপাতি সেখানে থাকলেও দেশের চিকিৎসকদের মতো এমন মানবিক সেবা পাওয়া যেত না। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা অসাধারণ নিষ্ঠায় মায়ের সেবা করেছেন, তাদের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”
বক্তব্যের এক পর্যায়ে কিছুটা রসাত্মক সুরে তিনি বলেন, “আর জানেন তো, ডাক্তারের স্বামী বা ডাক্তারের স্ত্রী যেই হই না কেন, আমি যেহেতু একজন ডাক্তারের স্বামী, তাই বলে তারাও ‘হাফ ডাক্তার’ হয়ে যায়—এমন একটা কথা প্রচলিত আছে। তো সেই হিসেবে কিছু কথা বলার লোভ আমি সংবরণ করতে পারছি না আপনাদের সামনে।”
দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও উন্নত ও নিরাপদ করতে সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী:
চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে হাসপাতাল গুলোতে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোগীদের সেবা বাড়াতে ইতোমধ্যে ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট ও মিডওয়াইফসহ অন্যান্য শূন্য পদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।নিরাপদ মাতৃত্ব ও মানসম্মত নবজাতক সেবা নিশ্চিত করতে সরকারি পর্যায়ে আরও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।দেশের ৭০ শতাংশেরও বেশি মানুষ গ্রামে বাস করলেও ৬০০টি উপজেলার মধ্যে মাত্র ৫টিতে ১০০ শয্যার হাসপাতাল রয়েছে। তাই গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের প্রতি এক বিশেষ আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একজন রাজনৈতিক কর্মী ও সরকারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি হিসেবে আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান—প্রতি বছর চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে। লাখো মানুষ উন্নত চিকিৎসার আশায় বিদেশে যাচ্ছেন, যা আমাদের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় ঘটাচ্ছে। আসুন, আমরা সবাই মিলে দেশে এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলি, যাতে দেশের মানুষ আস্থার সঙ্গে দেশেই উন্নত চিকিৎসা নিতে পারেন এবং বিদেশমুখিতা কমে আসে।”
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৩ পূর্বাহ্ণ
শনিবার (১১ জুলাই) 'ডিএমসি ডে-২০২৬' এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে ঢামেকের প্রত্যেক চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছিলেন। সেদিন আহত ও শহীদ মানুষগুলোর পাশে তারা দাঁড়িয়েছিলেন এবং সর্বোচ্চ সেবা দিয়েছিলেন।”
চিকিৎসকদের মহান পেশার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ডাক্তাররা জনগণের পরম বন্ধু ও ভরসার জায়গা। মানুষ বিপদে পড়লে ডাক্তারের কাছে যায়। চিকিৎসকরাই রোগ-শোকে কাতর মানুষের পাশে দাঁড়ান। এই কথাটি আমি আমার নিজের জীবনেও গভীরভাবে উপলব্ধি করেছি।”
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, “দেশের প্রখ্যাত চিকিৎসকরাই বহু বছর ধরে আমার মায়ের চিকিৎসা করেছেন। মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত তারা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও মানবিকতার সঙ্গে তার পাশে ছিলেন। বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হলেও আমার বিশ্বাস ছিল, উন্নত যন্ত্রপাতি সেখানে থাকলেও দেশের চিকিৎসকদের মতো এমন মানবিক সেবা পাওয়া যেত না। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা অসাধারণ নিষ্ঠায় মায়ের সেবা করেছেন, তাদের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”
বক্তব্যের এক পর্যায়ে কিছুটা রসাত্মক সুরে তিনি বলেন, “আর জানেন তো, ডাক্তারের স্বামী বা ডাক্তারের স্ত্রী যেই হই না কেন, আমি যেহেতু একজন ডাক্তারের স্বামী, তাই বলে তারাও ‘হাফ ডাক্তার’ হয়ে যায়—এমন একটা কথা প্রচলিত আছে। তো সেই হিসেবে কিছু কথা বলার লোভ আমি সংবরণ করতে পারছি না আপনাদের সামনে।”
দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও উন্নত ও নিরাপদ করতে সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী:
চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে হাসপাতাল গুলোতে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোগীদের সেবা বাড়াতে ইতোমধ্যে ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট ও মিডওয়াইফসহ অন্যান্য শূন্য পদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।নিরাপদ মাতৃত্ব ও মানসম্মত নবজাতক সেবা নিশ্চিত করতে সরকারি পর্যায়ে আরও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।দেশের ৭০ শতাংশেরও বেশি মানুষ গ্রামে বাস করলেও ৬০০টি উপজেলার মধ্যে মাত্র ৫টিতে ১০০ শয্যার হাসপাতাল রয়েছে। তাই গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের প্রতি এক বিশেষ আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একজন রাজনৈতিক কর্মী ও সরকারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি হিসেবে আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান—প্রতি বছর চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে। লাখো মানুষ উন্নত চিকিৎসার আশায় বিদেশে যাচ্ছেন, যা আমাদের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় ঘটাচ্ছে। আসুন, আমরা সবাই মিলে দেশে এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলি, যাতে দেশের মানুষ আস্থার সঙ্গে দেশেই উন্নত চিকিৎসা নিতে পারেন এবং বিদেশমুখিতা কমে আসে।”
