নেত্রকোনা কংস, মগড়া, সুমেশ্বরী ও ধনু নদীবিধৌত জনপদ। বর্ষা এলেই এসব নদীর সৌন্দর্যের পাশাপাশি দেখা দেয় ভাঙনের নির্মম বাস্তবতা। সেই বাস্তবতার মুখোমুখি আজ নেত্রকোনা সদর উপজেলার কালিয়ারা গাবরাগাতী ইউনিয়নের মশুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কংস নদীর অব্যাহত ভাঙনে বিদ্যালয়টির মাঠের বিশাল অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে একদিন পুরো বিদ্যালয়টিই কংসের গর্ভে হারিয়ে যেতে পারে।
প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই বিদ্যালয়টি শুধু মশুয়া গ্রামের নয়; আশপাশের একাধিক গ্রামের শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম ভরসাস্থল। বর্তমানে ১৭৬ জন শিক্ষার্থী এখানে পাঠ গ্রহণ করছে। কিন্তু বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও নদীভাঙনের ঝুঁকি দিন দিন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান রুমান একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, “এই বিদ্যালয়টি এলাকার শিক্ষাব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ১৭৬ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত পাঠ গ্রহণ করছে। শিক্ষক সংকটও রয়েছে; চারজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কংস নদীর ভাঙন। নদীর স্রোতে বিদ্যালয়ের মাঠের মাটি প্রতিনিয়ত সরে যাচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে মাঠে মাটি ভরাট, নদীতীরে গাইড ওয়াল এবং বিদ্যালয় ঘিরে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ না হলে ভবিষ্যতে বিদ্যালয়টিকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।”
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য, একটি বিদ্যালয় শুধু শিক্ষার প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি এলাকার ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি। তাই বিদ্যালয়টি রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি। তাদের মতে, নদীভাঙন প্রতিরোধে টেকসই তীররক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সংস্কার করা হলে শত শত শিশুর নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হবে।
এলাকাবাসী ২০২৬–২৭ অর্থবছরেই বিদ্যালয়ের জরুরি সংস্কার, মাঠে মাটি ভরাট, নদীতীরে গাইড ওয়াল নির্মাণ এবং বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক, জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রতি মানবিক ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
শিশুদের নিরাপদ শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। একটি বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হওয়া মানে শুধু একটি ভবন হারিয়ে যাওয়া নয় হারিয়ে যাওয়া একটি প্রজন্মের স্বপ্ন, সম্ভাবনা এবং একটি জনপদের শিক্ষার আলোকবর্তিকা। তাই কংসের ভাঙন থামিয়ে মশুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে রক্ষা করা এখন শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক অঙ্গীকার।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ
নেত্রকোনা কংস, মগড়া, সুমেশ্বরী ও ধনু নদীবিধৌত জনপদ। বর্ষা এলেই এসব নদীর সৌন্দর্যের পাশাপাশি দেখা দেয় ভাঙনের নির্মম বাস্তবতা। সেই বাস্তবতার মুখোমুখি আজ নেত্রকোনা সদর উপজেলার কালিয়ারা গাবরাগাতী ইউনিয়নের মশুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কংস নদীর অব্যাহত ভাঙনে বিদ্যালয়টির মাঠের বিশাল অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে একদিন পুরো বিদ্যালয়টিই কংসের গর্ভে হারিয়ে যেতে পারে।
প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই বিদ্যালয়টি শুধু মশুয়া গ্রামের নয়; আশপাশের একাধিক গ্রামের শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম ভরসাস্থল। বর্তমানে ১৭৬ জন শিক্ষার্থী এখানে পাঠ গ্রহণ করছে। কিন্তু বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও নদীভাঙনের ঝুঁকি দিন দিন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান রুমান একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, “এই বিদ্যালয়টি এলাকার শিক্ষাব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ১৭৬ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত পাঠ গ্রহণ করছে। শিক্ষক সংকটও রয়েছে; চারজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কংস নদীর ভাঙন। নদীর স্রোতে বিদ্যালয়ের মাঠের মাটি প্রতিনিয়ত সরে যাচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে মাঠে মাটি ভরাট, নদীতীরে গাইড ওয়াল এবং বিদ্যালয় ঘিরে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ না হলে ভবিষ্যতে বিদ্যালয়টিকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।”
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য, একটি বিদ্যালয় শুধু শিক্ষার প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি এলাকার ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি। তাই বিদ্যালয়টি রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি। তাদের মতে, নদীভাঙন প্রতিরোধে টেকসই তীররক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সংস্কার করা হলে শত শত শিশুর নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হবে।
এলাকাবাসী ২০২৬–২৭ অর্থবছরেই বিদ্যালয়ের জরুরি সংস্কার, মাঠে মাটি ভরাট, নদীতীরে গাইড ওয়াল নির্মাণ এবং বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক, জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রতি মানবিক ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
শিশুদের নিরাপদ শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। একটি বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হওয়া মানে শুধু একটি ভবন হারিয়ে যাওয়া নয় হারিয়ে যাওয়া একটি প্রজন্মের স্বপ্ন, সম্ভাবনা এবং একটি জনপদের শিক্ষার আলোকবর্তিকা। তাই কংসের ভাঙন থামিয়ে মশুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে রক্ষা করা এখন শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক অঙ্গীকার।
