ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন গুলিস্তান ফুলবাড়িয়া এলাকার তিনটি প্রধান মার্কেট – সিটি প্লাজা, নগর প্লাজা ও জাকের সুপার মার্কেট – অবৈধ দখলের কারণে বর্তমানে অরাজকতা ও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই মার্কেটগুলো রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় অবৈধভাবে দখল করে রাখা হয়েছে এবং মার্কেট পরিচালনা বা রাজস্ব আদায়ে সিটি করপোরেশনের কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।
সুত্র মতে, ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ৩৩ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের কাউন্সিল আওয়াল হোসেন, তার ক্ষমতা ও প্রভাব খাটিয়ে মার্কেটগুলোর বৈধ কমিটিকে ক্ষমতার জোরে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে দেন। এরপর তিনি এবং তার অনুসারীরা মার্কেটগুলো অবৈধভাবে জবরদখল করে নেন।
পরবর্তীতে, ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্ট পটপরিবর্তনের সাথে সাথেই এই মার্কেটগুলোর দখলদারিত্বের পরিবর্তন ঘটে। আওয়ামী লীগের দখলদারদের হটিয়ে বিএনপি ও জামাতে ইসলামের স্থানীয় নেতাকর্মীরা মার্কেটগুলো দখল করেন। গত সপ্তাহে নগর প্লাজা মার্কেটের অফিস কক্ষটিতে বিএনপির লোকজন তালা লাগিয়ে দেওয়ার ফলে দু-পক্ষের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, পরিস্থিতি ক্রমশঃ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
এই তিনটি মার্কেটে বর্তমানে কোনো বৈধ ও নির্বাচিত কমিটি নেই। মার্কেটগুলোতে অর্থের ব্যাপক ছড়াছড়ি থাকলেও সিটি করপোরেশন বা বৈধ পরিচালনা পর্ষদ এর কোনো সুফল পাচ্ছে না। অবৈধ দখলদাররা মার্কেট থেকে প্রচুর অর্থ আদায় করছে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ ও ভয়ের সৃষ্টি করছে।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন যে, দখলদাররা তাদের থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছে এবং যারা চাঁদা দিতে অস্বীকার করছে তাদের হুমকি ও মারধরের শিকার হতে হচ্ছে। মার্কেটের উন্নয়ন বা রক্ষণাবেক্ষণের কোনো কাজ হচ্ছে না এবং পরিবেশ ক্রমশঃ খারাপ হচ্ছে।
অবৈধ দখলের এই ভয়াবহ চিত্র সামনে এলেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে সিটি করপোরেশন যেন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। এই নিষ্ক্রিয়তা অবৈধ দখলদারদের উৎসাহিত করছে এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকরা অবৈধ দখল মুক্ত করে মার্কেটগুলো সিটি করপোরেশনের আওতায় ফিরিয়ে আনার এবং বৈধ কমিটি গঠনের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন। তারা আশঙ্কা করছেন যে, শীঘ্রই কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
গড় রেটিং: ৫/৫ (১ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫২ অপরাহ্ণ
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন গুলিস্তান ফুলবাড়িয়া এলাকার তিনটি প্রধান মার্কেট – সিটি প্লাজা, নগর প্লাজা ও জাকের সুপার মার্কেট – অবৈধ দখলের কারণে বর্তমানে অরাজকতা ও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই মার্কেটগুলো রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় অবৈধভাবে দখল করে রাখা হয়েছে এবং মার্কেট পরিচালনা বা রাজস্ব আদায়ে সিটি করপোরেশনের কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।
সুত্র মতে, ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ৩৩ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের কাউন্সিল আওয়াল হোসেন, তার ক্ষমতা ও প্রভাব খাটিয়ে মার্কেটগুলোর বৈধ কমিটিকে ক্ষমতার জোরে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে দেন। এরপর তিনি এবং তার অনুসারীরা মার্কেটগুলো অবৈধভাবে জবরদখল করে নেন।
পরবর্তীতে, ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্ট পটপরিবর্তনের সাথে সাথেই এই মার্কেটগুলোর দখলদারিত্বের পরিবর্তন ঘটে। আওয়ামী লীগের দখলদারদের হটিয়ে বিএনপি ও জামাতে ইসলামের স্থানীয় নেতাকর্মীরা মার্কেটগুলো দখল করেন। গত সপ্তাহে নগর প্লাজা মার্কেটের অফিস কক্ষটিতে বিএনপির লোকজন তালা লাগিয়ে দেওয়ার ফলে দু-পক্ষের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, পরিস্থিতি ক্রমশঃ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
এই তিনটি মার্কেটে বর্তমানে কোনো বৈধ ও নির্বাচিত কমিটি নেই। মার্কেটগুলোতে অর্থের ব্যাপক ছড়াছড়ি থাকলেও সিটি করপোরেশন বা বৈধ পরিচালনা পর্ষদ এর কোনো সুফল পাচ্ছে না। অবৈধ দখলদাররা মার্কেট থেকে প্রচুর অর্থ আদায় করছে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ ও ভয়ের সৃষ্টি করছে।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন যে, দখলদাররা তাদের থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছে এবং যারা চাঁদা দিতে অস্বীকার করছে তাদের হুমকি ও মারধরের শিকার হতে হচ্ছে। মার্কেটের উন্নয়ন বা রক্ষণাবেক্ষণের কোনো কাজ হচ্ছে না এবং পরিবেশ ক্রমশঃ খারাপ হচ্ছে।
অবৈধ দখলের এই ভয়াবহ চিত্র সামনে এলেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে সিটি করপোরেশন যেন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। এই নিষ্ক্রিয়তা অবৈধ দখলদারদের উৎসাহিত করছে এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকরা অবৈধ দখল মুক্ত করে মার্কেটগুলো সিটি করপোরেশনের আওতায় ফিরিয়ে আনার এবং বৈধ কমিটি গঠনের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন। তারা আশঙ্কা করছেন যে, শীঘ্রই কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
