দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে পুলিশের হামলায় এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানো, অপর চোখেও গুরুতর ক্ষতি এবং একাধিক মামলায় কারাবরণ করার পরও নেত্রকোনার মদন উপজেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিতে স্থান না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন দলের ত্যাগী নেতা মেহেদী হাসান মিন্টু ওরফে নবাব।
তিনি দাবি করেছেন, ছাত্রদলের সাংগঠনিক নিয়ম উপেক্ষা করে অছাত্র, বিবাহিত ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে ‘পকেট কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। অবিলম্বে এই কমিটি বাতিল করে প্রকৃত ছাত্র ও ত্যাগী কর্মীদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান তিনি।
সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল ৩টায় মদন উপজেলার ভাই-বোন মার্কেটে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন মেহেদী হাসান মিন্টু।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মদন উপজেলা তরুণ দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মারুফ এবং চানগাঁও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ হিরন।
সংবাদ সম্মেলনে মিন্টু বলেন, দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে গিয়ে তিনি একাধিকবার হামলা, মামলা ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন।
২০১৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের সহধর্মিণী তাহমিনা জামান শ্রাবণীর মনোনয়নকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়।
পরে ২০২২ সালে নুরুল আলম চেয়ারম্যানের বাড়ির দিকে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের অভিযানে আরও দুটি মামলায় আসামি হয়ে কারাভোগ করেন।
২০২৩ সালেও বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় তাকে কারাগারে যেতে হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই আওয়ামী লীগ ও পুলিশের বিরুদ্ধে আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে তার একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায় এবং অন্য চোখের দৃষ্টিশক্তিও অর্ধেকে নেমে আসে।
বিদেশে চিকিৎসা নিয়েও পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি। এত ত্যাগের পরও দল তাকে মূল্যায়ন করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নবগঠিত কমিটির সমালোচনা করে মিন্টু বলেন, ছাত্রদলের নিয়ম অনুযায়ী জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) আহ্বান করা হলেও বাস্তবে কোনো সিভি ছাড়াই কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন না, জেল-জুলুমের শিকার হননি এবং ছাত্রত্ব নেই এমন ব্যক্তিদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।
এমনকি বিবাহিত ও সন্তান রয়েছে এমন ব্যক্তিদেরও গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর এবং নেত্রকোনা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমান কমিটি বাতিল করে প্রকৃত ছাত্র ও আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগী নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে দ্রুত নতুন কমিটি গঠন করতে হবে।
অন্যথায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এই সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অনিক মাহবুব চৌধুরী বলেন, আগে ছাত্রদলের কমিটিতে বিবাহিতদের স্থান ছিল না।
তবে পরবর্তীতে সেই বিধান শিথিল করা হয়েছে। বর্তমানে বিবাহিত হওয়া কোনো ব্যক্তির ছাত্রদলের কমিটিতে দায়িত্ব পালনে সাংগঠনিকভাবে বাধা নেই।
উল্লেখ্য, গত ৫ জুলাই নেত্রকোনা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অনিক মাহবুব চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল হুদা শামীমের স্বাক্ষরে মদন উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
এতে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে শামীম হাসান, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাইমন আকন্দ লিমন এবং পৌর ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে মেহেদী হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আব্দুল বারী হীরার নাম ঘোষণা করা হয়।
(অনলাইন)
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০২:২২ অপরাহ্ণ
দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে পুলিশের হামলায় এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানো, অপর চোখেও গুরুতর ক্ষতি এবং একাধিক মামলায় কারাবরণ করার পরও নেত্রকোনার মদন উপজেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিতে স্থান না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন দলের ত্যাগী নেতা মেহেদী হাসান মিন্টু ওরফে নবাব।
তিনি দাবি করেছেন, ছাত্রদলের সাংগঠনিক নিয়ম উপেক্ষা করে অছাত্র, বিবাহিত ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে ‘পকেট কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। অবিলম্বে এই কমিটি বাতিল করে প্রকৃত ছাত্র ও ত্যাগী কর্মীদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান তিনি।
সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল ৩টায় মদন উপজেলার ভাই-বোন মার্কেটে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন মেহেদী হাসান মিন্টু।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মদন উপজেলা তরুণ দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মারুফ এবং চানগাঁও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ হিরন।
সংবাদ সম্মেলনে মিন্টু বলেন, দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে গিয়ে তিনি একাধিকবার হামলা, মামলা ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন।
২০১৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের সহধর্মিণী তাহমিনা জামান শ্রাবণীর মনোনয়নকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়।
পরে ২০২২ সালে নুরুল আলম চেয়ারম্যানের বাড়ির দিকে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের অভিযানে আরও দুটি মামলায় আসামি হয়ে কারাভোগ করেন।
২০২৩ সালেও বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় তাকে কারাগারে যেতে হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই আওয়ামী লীগ ও পুলিশের বিরুদ্ধে আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে তার একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায় এবং অন্য চোখের দৃষ্টিশক্তিও অর্ধেকে নেমে আসে।
বিদেশে চিকিৎসা নিয়েও পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি। এত ত্যাগের পরও দল তাকে মূল্যায়ন করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নবগঠিত কমিটির সমালোচনা করে মিন্টু বলেন, ছাত্রদলের নিয়ম অনুযায়ী জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) আহ্বান করা হলেও বাস্তবে কোনো সিভি ছাড়াই কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন না, জেল-জুলুমের শিকার হননি এবং ছাত্রত্ব নেই এমন ব্যক্তিদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।
এমনকি বিবাহিত ও সন্তান রয়েছে এমন ব্যক্তিদেরও গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর এবং নেত্রকোনা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমান কমিটি বাতিল করে প্রকৃত ছাত্র ও আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগী নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে দ্রুত নতুন কমিটি গঠন করতে হবে।
অন্যথায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এই সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অনিক মাহবুব চৌধুরী বলেন, আগে ছাত্রদলের কমিটিতে বিবাহিতদের স্থান ছিল না।
তবে পরবর্তীতে সেই বিধান শিথিল করা হয়েছে। বর্তমানে বিবাহিত হওয়া কোনো ব্যক্তির ছাত্রদলের কমিটিতে দায়িত্ব পালনে সাংগঠনিকভাবে বাধা নেই।
উল্লেখ্য, গত ৫ জুলাই নেত্রকোনা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অনিক মাহবুব চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল হুদা শামীমের স্বাক্ষরে মদন উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
এতে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে শামীম হাসান, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাইমন আকন্দ লিমন এবং পৌর ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে মেহেদী হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আব্দুল বারী হীরার নাম ঘোষণা করা হয়।
(অনলাইন)
