সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা "এই বছরেই দেশে ফিরবেন" মর্মে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা দিয়েছেন। তবে তাঁর এই সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন এবং বিগত সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সমালোচকদের মতে, ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার একরোখা মানসিকতা এবং পারিবারিক অহংকার একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল ও দেশের শাসনব্যবস্থাকে খাদের কিনারে নিয়ে গেছে। বিগত সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ দীর্ঘ সময় ধরে জমা হয়েছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
দেশে দিনের পর দিন গণতন্ত্রকে সংকুচিত করে একদলীয় বা কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা কায়েম করা।
বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, গুম, খুন এবং সবশেষে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ওপর চালানো গণহত্যার দাগ।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নিজেদের স্বার্থে অপব্যবহার করা এবং মেগা প্রজেক্টের আড়ালে দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা।
তীব্র ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে দেশত্যাগে বাধ্য হওয়ার ঘটনাটিকে অনেকেই দলটির রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব এবং জনগণের চরম ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।
বিদেশে অবস্থান করে শেখ হাসিনার পুনরায় রাজনীতিতে ফেরার এই বক্তব্যকে অনেকেই দেশের ভেতরে থাকা সাধারণ ও নিরীহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের জন্য এক ধরণের "প্রতারণা ও ভণ্ডামি" হিসেবে অভিহিত করছেন।
"বিদেশে পাচার করা বিপুল অর্থের পাহাড়ে বসে বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্ব দেশে ফেরার ফাঁকা বুলি আওড়াচ্ছে। অথচ দেশের মাটিতে থেকে এখনো যে সমস্ত নিরীহ নেতাকর্মী মামলার মুখোমুখি হচ্ছে কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছে, এই ধরনের ঘোষণা তাদের আরও বেশি সামাজিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকিতে ফেলবে।"
— সোহেল তাজ
রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশের মতে, আওয়ামী লীগ যদি তাদের অতীত ভুলের জন্য কোনো প্রকার আত্মসমালোচনা এবং আত্মউপলব্ধি না করে, তবে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মাঠে দলটির ইতিবাচকভাবে ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। জনগণের আস্থা পুনরায় অর্জন করতে হলে অতীতের দুর্নীতি, অনিয়ম ও দমন-পীড়নের দায় স্বীকার করা দলটির জন্য প্রথম ও প্রধান শর্ত।
গড় রেটিং: ৫/৫ (১ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা "এই বছরেই দেশে ফিরবেন" মর্মে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা দিয়েছেন। তবে তাঁর এই সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন এবং বিগত সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সমালোচকদের মতে, ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার একরোখা মানসিকতা এবং পারিবারিক অহংকার একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল ও দেশের শাসনব্যবস্থাকে খাদের কিনারে নিয়ে গেছে। বিগত সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ দীর্ঘ সময় ধরে জমা হয়েছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
দেশে দিনের পর দিন গণতন্ত্রকে সংকুচিত করে একদলীয় বা কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা কায়েম করা।
বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, গুম, খুন এবং সবশেষে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ওপর চালানো গণহত্যার দাগ।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নিজেদের স্বার্থে অপব্যবহার করা এবং মেগা প্রজেক্টের আড়ালে দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা।
তীব্র ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে দেশত্যাগে বাধ্য হওয়ার ঘটনাটিকে অনেকেই দলটির রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব এবং জনগণের চরম ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।
বিদেশে অবস্থান করে শেখ হাসিনার পুনরায় রাজনীতিতে ফেরার এই বক্তব্যকে অনেকেই দেশের ভেতরে থাকা সাধারণ ও নিরীহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের জন্য এক ধরণের "প্রতারণা ও ভণ্ডামি" হিসেবে অভিহিত করছেন।
"বিদেশে পাচার করা বিপুল অর্থের পাহাড়ে বসে বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্ব দেশে ফেরার ফাঁকা বুলি আওড়াচ্ছে। অথচ দেশের মাটিতে থেকে এখনো যে সমস্ত নিরীহ নেতাকর্মী মামলার মুখোমুখি হচ্ছে কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছে, এই ধরনের ঘোষণা তাদের আরও বেশি সামাজিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকিতে ফেলবে।"
— সোহেল তাজ
রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশের মতে, আওয়ামী লীগ যদি তাদের অতীত ভুলের জন্য কোনো প্রকার আত্মসমালোচনা এবং আত্মউপলব্ধি না করে, তবে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মাঠে দলটির ইতিবাচকভাবে ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। জনগণের আস্থা পুনরায় অর্জন করতে হলে অতীতের দুর্নীতি, অনিয়ম ও দমন-পীড়নের দায় স্বীকার করা দলটির জন্য প্রথম ও প্রধান শর্ত।
