ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার জন্য বিশ্বের অন্তত ১৩টি দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র তীব্র কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেছিল বলে দাবি করেছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি। শনিবার (৪ জুলাই) প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের এই নজিরবিহীন চাপের মুখে পূর্ব ইউরোপ, আফ্রিকা, পূর্ব এশিয়া এবং খোদ উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ শেষ পর্যন্ত তেহরানে কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি। তবে পরবর্তীতে এসব দেশের কয়েকটি কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ইরানের কাছে তাদের অনুপস্থিতির বাধ্যবাধকতা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি উচ্চপদস্থ সূত্রের বরাত দিয়ে তাসনিম জানায়, খামেনির স্মরণানুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিদেশি প্রতিনিধিদের তেহরান সফর ঠেকাতে গত পাঁচ দিন ধরে এক ‘সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচারণা’ চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, গত ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একটি গোপন নির্দেশনা জারি করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয় যেন তারা স্বাগতিক সরকারগুলোকে স্পষ্ট বার্তা দেয়—খামেনির জানাজায় অংশগ্রহণকে ওয়াশিংটন একটি ‘অবন্ধুত্বপূর্ণ’ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করবে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
দুই আরব কূটনীতিকের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ব্যক্তিগতভাবে অন্তত পাঁচটি আরব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন এবং জানাজায় প্রতিনিধি না পাঠাতে চাপ দেন।
সবচেয়ে বড় চাপ আসে আফ্রিকার দেশগুলোর ওপর। আফ্রিকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতরা সেখানকার বেশ কয়েকটি সরকারকে সরাসরি সতর্ক করে দেন যে, খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দিলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া "উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচি" চিরতরে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
তবে তাসনিম নিউজ এজেন্সি তাদের এই বড় দাবির সপক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রাতিষ্ঠানিক নথি বা প্রকাশ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। অন্যদিকে, তেহরানের এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে ওয়াশিংটন বা মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া বা বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৭ অপরাহ্ণ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার জন্য বিশ্বের অন্তত ১৩টি দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র তীব্র কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেছিল বলে দাবি করেছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি। শনিবার (৪ জুলাই) প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের এই নজিরবিহীন চাপের মুখে পূর্ব ইউরোপ, আফ্রিকা, পূর্ব এশিয়া এবং খোদ উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ শেষ পর্যন্ত তেহরানে কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি। তবে পরবর্তীতে এসব দেশের কয়েকটি কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ইরানের কাছে তাদের অনুপস্থিতির বাধ্যবাধকতা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি উচ্চপদস্থ সূত্রের বরাত দিয়ে তাসনিম জানায়, খামেনির স্মরণানুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিদেশি প্রতিনিধিদের তেহরান সফর ঠেকাতে গত পাঁচ দিন ধরে এক ‘সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচারণা’ চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, গত ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একটি গোপন নির্দেশনা জারি করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয় যেন তারা স্বাগতিক সরকারগুলোকে স্পষ্ট বার্তা দেয়—খামেনির জানাজায় অংশগ্রহণকে ওয়াশিংটন একটি ‘অবন্ধুত্বপূর্ণ’ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করবে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
দুই আরব কূটনীতিকের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ব্যক্তিগতভাবে অন্তত পাঁচটি আরব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন এবং জানাজায় প্রতিনিধি না পাঠাতে চাপ দেন।
সবচেয়ে বড় চাপ আসে আফ্রিকার দেশগুলোর ওপর। আফ্রিকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতরা সেখানকার বেশ কয়েকটি সরকারকে সরাসরি সতর্ক করে দেন যে, খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দিলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া "উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচি" চিরতরে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
তবে তাসনিম নিউজ এজেন্সি তাদের এই বড় দাবির সপক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রাতিষ্ঠানিক নথি বা প্রকাশ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। অন্যদিকে, তেহরানের এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে ওয়াশিংটন বা মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া বা বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
