প্রতি বছর ভরা বর্ষার এই মৌসুমে, মেঘনা নদীজুড়ে রুপালি ইলিশ মাছ ধরার আশায় স্বপ্নে বিভোর থাকে দ্বীপ উপজেলা নোয়াখালী হাতিয়া উপকূলের জেলে রা।
মৎস্য আহরণের ধারাবাহিকতায় বছরের এই সময়ে নদীতে জাল ফেললেই ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ ধরা পড়ার কথা। বাস্তবে চলতি মৌসুমে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ উল্টো ও হতাশাজনক চিত্র। জেলেরা প্রতিনিয়ত গভীর রাতে নদীতে গিয়েও অধিকাংশ ক্ষেত্রে খালি হাতে, কিংবা অতি সামান্য কিছু মাছ নিয়ে ঘাঁটে ফিরতে হচ্ছে।
গতকাল শনিবার (৪) জুলাই সকাল হতে বিকাল পর্যন্ত উপজেলার সূর্যমুখী ঘাঁট, কাদিরবাজার ঘাঁট, পাইতান ঘাঁট, চেয়ারম্যান ঘাঁট, নলচিরা ঘাঁট, চরচেঙ্গা ঘাঁট, মোহাম্মদপুর ঘাৃট ও তমরউদ্দিন ঘাঁটসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলের জেলেপাড়া ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
এ বিষয়ে সরেজমিন বার্তা কে স্থানীয় জেলেরা জানায় প্রতিদিন গভীর রাত থেকে নদীতে মাছ ধরতে গেলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মিলছে না ইলিশ। এদের মধ্যে অনেকেই সামান্য কিছু মাছ নিয়ে ফিরছেন, আবার কেউ প্রায় খালি হাতেই ঘাটে ফিরছেন, ফলে মাছ বিক্রির আয় দিয়ে নৌকার জ্বালানি, বরফ, জাল রক্ষণাবেক্ষণ ও শ্রমিকের খরচ মেটানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে ঋণ ও ধারদেনার বোঝা আরও বাড়ছে।
মেঘনা ও সাগরে মাছ না মেলায় ঘাটগুলোতে চরম নিস্তব্ধতা ও হাহাকার বিরাজ করছে। জেলেদের জালে ইলিশের বদলে তুলনামূলক কম দামি পোয়া মাছ ও ছোট সাইজের জাটকা বেশি ধরা পড়ছে।
জেলেদের কাছ থেকে জানা যায় নৌকার জ্বালানি, বরফ ও শ্রমিকের মজুরি বাবদ প্রতিদিন গড়ে ১৫,০০০ টাকার মতো খরচ হয়। কিন্তু মাছ বিক্রি করে ৫,০০০ টাকাও উঠছে না। অনেক জেলে দাদন ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সাগরে গিয়ে মহাজনের কাছে দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন।
সূর্যমুখী ঘাটের জেলে জালাল বলেন, ’প্রতিদিন নদীতে নামছি, কিন্তু আগের মতো মাছ মিলছে না। কয়েকবার জাল ফেলেও তেমন ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। সংসারের খরচ চালানো এখন খুব কঠিন হয়ে গেছে।’
চেয়ারম্যান ঘাটের জেলে রাব্বানী বলেন, তেল, বরফ আর খাদ্যসামগ্রীর দাম বেড়েছে। মাছ না পেলে খরচই ওঠে না। পরিবার নিয়ে এখন চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি।
ইলিশের সংকটের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় মাছের আড়তব্যবসার উপর ও। সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক আড়তে আগের মতো কর্মব্যস্ততা নেই।এতে ব্যবসায়ীরাও লোকসানের মুখে পড়েছেন।
কাদিরবাজার ঘাটের ব্যবসায়ী শাহীন বলেন, ভরা মৌসুমে সাধারণত ঘাটে ইলিশের স্তূপ পড়ে থাকে। এবার সেই চিত্র নেই। মাছ কম আসায় ব্যবসা একেবারে মন্দা, প্রতিদিনই লোসান গুনতে হচ্ছে।
উক্ত বিষয়ে জানতে চাইলে সরে জমিন বার্তা কে হাতিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফয়জুর রহমান বলেন, নদীতে স্রোত কমে যাওয়ার কারণে পলি পড়ে গভীরতা কমে যাচ্ছে। এ কারণে ইলিশ অন্যদিকে চলে যাচ্ছে। তবে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশের ভরা মৌসুম। আশা করছি বৃষ্টি বাড়লেই ইলিশের সংকট দূর হবে।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৩ অপরাহ্ণ
প্রতি বছর ভরা বর্ষার এই মৌসুমে, মেঘনা নদীজুড়ে রুপালি ইলিশ মাছ ধরার আশায় স্বপ্নে বিভোর থাকে দ্বীপ উপজেলা নোয়াখালী হাতিয়া উপকূলের জেলে রা।
মৎস্য আহরণের ধারাবাহিকতায় বছরের এই সময়ে নদীতে জাল ফেললেই ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ ধরা পড়ার কথা। বাস্তবে চলতি মৌসুমে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ উল্টো ও হতাশাজনক চিত্র। জেলেরা প্রতিনিয়ত গভীর রাতে নদীতে গিয়েও অধিকাংশ ক্ষেত্রে খালি হাতে, কিংবা অতি সামান্য কিছু মাছ নিয়ে ঘাঁটে ফিরতে হচ্ছে।
গতকাল শনিবার (৪) জুলাই সকাল হতে বিকাল পর্যন্ত উপজেলার সূর্যমুখী ঘাঁট, কাদিরবাজার ঘাঁট, পাইতান ঘাঁট, চেয়ারম্যান ঘাঁট, নলচিরা ঘাঁট, চরচেঙ্গা ঘাঁট, মোহাম্মদপুর ঘাৃট ও তমরউদ্দিন ঘাঁটসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলের জেলেপাড়া ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
এ বিষয়ে সরেজমিন বার্তা কে স্থানীয় জেলেরা জানায় প্রতিদিন গভীর রাত থেকে নদীতে মাছ ধরতে গেলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মিলছে না ইলিশ। এদের মধ্যে অনেকেই সামান্য কিছু মাছ নিয়ে ফিরছেন, আবার কেউ প্রায় খালি হাতেই ঘাটে ফিরছেন, ফলে মাছ বিক্রির আয় দিয়ে নৌকার জ্বালানি, বরফ, জাল রক্ষণাবেক্ষণ ও শ্রমিকের খরচ মেটানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে ঋণ ও ধারদেনার বোঝা আরও বাড়ছে।
মেঘনা ও সাগরে মাছ না মেলায় ঘাটগুলোতে চরম নিস্তব্ধতা ও হাহাকার বিরাজ করছে। জেলেদের জালে ইলিশের বদলে তুলনামূলক কম দামি পোয়া মাছ ও ছোট সাইজের জাটকা বেশি ধরা পড়ছে।
জেলেদের কাছ থেকে জানা যায় নৌকার জ্বালানি, বরফ ও শ্রমিকের মজুরি বাবদ প্রতিদিন গড়ে ১৫,০০০ টাকার মতো খরচ হয়। কিন্তু মাছ বিক্রি করে ৫,০০০ টাকাও উঠছে না। অনেক জেলে দাদন ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সাগরে গিয়ে মহাজনের কাছে দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন।
সূর্যমুখী ঘাটের জেলে জালাল বলেন, ’প্রতিদিন নদীতে নামছি, কিন্তু আগের মতো মাছ মিলছে না। কয়েকবার জাল ফেলেও তেমন ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। সংসারের খরচ চালানো এখন খুব কঠিন হয়ে গেছে।’
চেয়ারম্যান ঘাটের জেলে রাব্বানী বলেন, তেল, বরফ আর খাদ্যসামগ্রীর দাম বেড়েছে। মাছ না পেলে খরচই ওঠে না। পরিবার নিয়ে এখন চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি।
ইলিশের সংকটের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় মাছের আড়তব্যবসার উপর ও। সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক আড়তে আগের মতো কর্মব্যস্ততা নেই।এতে ব্যবসায়ীরাও লোকসানের মুখে পড়েছেন।
কাদিরবাজার ঘাটের ব্যবসায়ী শাহীন বলেন, ভরা মৌসুমে সাধারণত ঘাটে ইলিশের স্তূপ পড়ে থাকে। এবার সেই চিত্র নেই। মাছ কম আসায় ব্যবসা একেবারে মন্দা, প্রতিদিনই লোসান গুনতে হচ্ছে।
উক্ত বিষয়ে জানতে চাইলে সরে জমিন বার্তা কে হাতিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফয়জুর রহমান বলেন, নদীতে স্রোত কমে যাওয়ার কারণে পলি পড়ে গভীরতা কমে যাচ্ছে। এ কারণে ইলিশ অন্যদিকে চলে যাচ্ছে। তবে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশের ভরা মৌসুম। আশা করছি বৃষ্টি বাড়লেই ইলিশের সংকট দূর হবে।
