রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
ONE NEWS EXPRESS

বিশ্বাসের নির্মম বলি: নারায়ণগঞ্জে বিকাশ ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩


মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ
মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ সহ-সম্পাদক
প্রকাশ : রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ | প্রিন্ট | ডাউনলোড কার্ড

বিশ্বাসের নির্মম বলি: নারায়ণগঞ্জে বিকাশ ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

পরিচিত মানুষের হাসিমুখের আড়ালে যে এতটা নৃশংসতা লুকিয়ে থাকতে পারে, তা হয়তো ভাবতেও পারেননি ষাটোর্ধ্ব বিকাশ ব্যবসায়ী মো. মোতালেব হোসেন। প্রতিদিনের মতো গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালেও তিনি বাসা থেকে বের হয়েছিলেন নিজের বিকাশ ও লাইব্রেরির দোকানের উদ্দেশ্যে। হাতে ছিল দুপুরের খাবারের জন্য পরম যত্বে গোছানো একটি লাল রঙের টিফিন বক্স। কিন্তু সেই খাবার আর তাঁর খাওয়া হয়নি। পথের মাঝেই ওত পেতে ছিল চেনা রূপের এক অচেনা জল্লাদ।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মাসদাইর বাজারে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করতেন মোতালেব হোসেন। একই এলাকার বাসিন্দা এবং ব্যবসায়িক পরিচিতির সূত্রে জাকির হোসেনের সাথে তাঁর সুসম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে আটটার দিকে মোতালেব যখন দোকানের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন জাকির তাঁর কাঁধে হাত রেখে অত্যন্ত খোশগল্প করতে করতে নিজের ফ্ল্যাটের দিকে নিয়ে যান। সিসিটিভি ফুটেজে এই দৃশ্যটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ মনে হলেও, ভেতরে চলছিল টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এক নীল নকশা।

পুলিশের তদন্ত এবং আসামির স্বীকারোক্তি থেকে জানা যায়, বিকাশ অ্যাকাউন্টের টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যেই মোতালেবকে কৌশলে বাসায় নেওয়া হয়েছিল। সেখানে নিয়ে তাঁর বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮৬ হাজার টাকা ক্যাশ আউট করে নেওয়া হয়। টাকা লুটের পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে মোতালেব হোসেনকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ড শেষে গভীর রাতে লাশটি লেপ-তোশকে পেঁচিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার (মিশুক) সাহায্যে জামতলা হাজী ব্রাদার্স রোডের একটি গলির পাশে ফেলে দিয়ে আসা হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে সড়কের পাশে তোশকে মোড়ানো পরিত্যক্ত মরদেহ দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধারের পর আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তদন্ত শুরু করে। 

ফুটেজে জাকিরের সাথে নিহতের শেষ মুহূর্তের হাঁটার দৃশ্যটিই অপরাধের মূল সূত্র এনে দেয়।

পরবর্তীতে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে বন্দর এলাকা থেকে মূল পরিকল্পনাকারী জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। 

জাকিরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাসদাইর এলাকার জাকিরের বাসা থেকে নিহত মোতালেবের সেই অক্ষত দুপুরের টিফিন বক্সটি উদ্ধার করা হয়। 

এছাড়া হত্যাকাণ্ডে সহায়তাকারী ওমর ফারুক (২২) ও সোহেল (৪৯) নামের আরও দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। উদ্ধার করা হয় লুণ্ঠিত ৮৬ হাজার টাকা এবং লাশ বহনে ব্যবহৃত অটোরিকশাটি।

এই নির্মম হত্যাকাণ্ড স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মনে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। চেনা মানুষের ওপর ভরসা করে যদি এভাবে ঘরে ঢুকে জীবন দিতে হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?— এমন প্রশ্ন এখন পুরো নারায়ণগঞ্জবাসীর। 

নিহত মোতালেব হোসেনের মেয়ে সুমনা আক্তার মিম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। 

ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, মূল আসামি ইতিমধ্যেই আদালতে দোষ স্বীকার করেছে এবং বাকিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 

নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর এখন একটাই দাবি—এই নির্মম ঘাতকদের যেন দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।


এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

ONE NEWS EXPRESS

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬


বিশ্বাসের নির্মম বলি: নারায়ণগঞ্জে বিকাশ ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশের তারিখ : রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

featured Image

পরিচিত মানুষের হাসিমুখের আড়ালে যে এতটা নৃশংসতা লুকিয়ে থাকতে পারে, তা হয়তো ভাবতেও পারেননি ষাটোর্ধ্ব বিকাশ ব্যবসায়ী মো. মোতালেব হোসেন। প্রতিদিনের মতো গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালেও তিনি বাসা থেকে বের হয়েছিলেন নিজের বিকাশ ও লাইব্রেরির দোকানের উদ্দেশ্যে। হাতে ছিল দুপুরের খাবারের জন্য পরম যত্বে গোছানো একটি লাল রঙের টিফিন বক্স। কিন্তু সেই খাবার আর তাঁর খাওয়া হয়নি। পথের মাঝেই ওত পেতে ছিল চেনা রূপের এক অচেনা জল্লাদ।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মাসদাইর বাজারে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করতেন মোতালেব হোসেন। একই এলাকার বাসিন্দা এবং ব্যবসায়িক পরিচিতির সূত্রে জাকির হোসেনের সাথে তাঁর সুসম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে আটটার দিকে মোতালেব যখন দোকানের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন জাকির তাঁর কাঁধে হাত রেখে অত্যন্ত খোশগল্প করতে করতে নিজের ফ্ল্যাটের দিকে নিয়ে যান। সিসিটিভি ফুটেজে এই দৃশ্যটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ মনে হলেও, ভেতরে চলছিল টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এক নীল নকশা।

পুলিশের তদন্ত এবং আসামির স্বীকারোক্তি থেকে জানা যায়, বিকাশ অ্যাকাউন্টের টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যেই মোতালেবকে কৌশলে বাসায় নেওয়া হয়েছিল। সেখানে নিয়ে তাঁর বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮৬ হাজার টাকা ক্যাশ আউট করে নেওয়া হয়। টাকা লুটের পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে মোতালেব হোসেনকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ড শেষে গভীর রাতে লাশটি লেপ-তোশকে পেঁচিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার (মিশুক) সাহায্যে জামতলা হাজী ব্রাদার্স রোডের একটি গলির পাশে ফেলে দিয়ে আসা হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে সড়কের পাশে তোশকে মোড়ানো পরিত্যক্ত মরদেহ দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধারের পর আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তদন্ত শুরু করে। 

ফুটেজে জাকিরের সাথে নিহতের শেষ মুহূর্তের হাঁটার দৃশ্যটিই অপরাধের মূল সূত্র এনে দেয়।

পরবর্তীতে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে বন্দর এলাকা থেকে মূল পরিকল্পনাকারী জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। 

জাকিরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাসদাইর এলাকার জাকিরের বাসা থেকে নিহত মোতালেবের সেই অক্ষত দুপুরের টিফিন বক্সটি উদ্ধার করা হয়। 

এছাড়া হত্যাকাণ্ডে সহায়তাকারী ওমর ফারুক (২২) ও সোহেল (৪৯) নামের আরও দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। উদ্ধার করা হয় লুণ্ঠিত ৮৬ হাজার টাকা এবং লাশ বহনে ব্যবহৃত অটোরিকশাটি।

এই নির্মম হত্যাকাণ্ড স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মনে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। চেনা মানুষের ওপর ভরসা করে যদি এভাবে ঘরে ঢুকে জীবন দিতে হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?— এমন প্রশ্ন এখন পুরো নারায়ণগঞ্জবাসীর। 

নিহত মোতালেব হোসেনের মেয়ে সুমনা আক্তার মিম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। 

ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, মূল আসামি ইতিমধ্যেই আদালতে দোষ স্বীকার করেছে এবং বাকিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 

নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর এখন একটাই দাবি—এই নির্মম ঘাতকদের যেন দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।



ONE NEWS EXPRESS

সম্পাদক ও প্রকাশক- মো: মনিরুজ্জামান
সহ-সম্পাদক: তুহিন আহসান
বার্তা সম্পাদক: তামিমা জান্নাত

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
বিশ্বাসের নির্মম বলি: নারায়ণগঞ্জে বিকাশ ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩
0:00 / 0:00
1x