রাজধানী ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত ও ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক এলাকা চকবাজারের আশিক টাওয়ারের ঠিক বিপরীত পাশে অবস্থিত 'হাজী আবুল বাশার সুপার মার্কেটে' একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘিঞ্জি পরিবেশ ও ঘনবসতিপূর্ণ এই বাণিজ্যিক এলাকার ভবনটিতে আগুন লাগার সাথে সাথেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং চারপাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। আতঙ্কিত ব্যবসায়ী ও স্থানীয় মানুষজন দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।
অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পাওয়া মাত্রই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের মোট *"৬টি ইউনিট*" একযোগে কাজ শুরু করে। তবে চকবাজার এলাকার অত্যন্ত সরু রাস্তা এবং যানজটের কারণে দমকল বাহিনীর বিশাল দূরহী গাড়ি এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি ঘটনাস্থলের একদম কাছাকাছি পৌঁছাতে মারাত্মক বেগ পেতে হয়।
এই তীব্র প্রতিকূলতা ও অত্যন্ত সংকীর্ণ পথের বাঁধা অতিক্রম করে ফায়ার সার্ভিসের সাহসী ও দক্ষ কর্মীদের টানা "১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের" অক্লান্ত ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অবশেষে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। দমকল বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপের কারণে আগুন আশেপাশে থাকা অন্যান্য বহুতল ও ঝুঁকিপূর্ণ বাণিজ্যিক ভবনে ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা পেয়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এবং উদ্ধারকারী দল হাজী আবুল বাশার সুপার মার্কেটে সরজমিন অনুসন্ধান ও প্রাথমিক তদন্ত চালান। তদন্তকালে ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম অবহেলা ও গুরুতর ত্রুটিসমূহ পরিলক্ষিত হয়:
সমগ্র মার্কেট ভবনটিতে কোনো প্রকার সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা (যেমন: ফায়ার এক্সটিংগুইশার, ফায়ার হাইড্রেন্ট, বা পানির পর্যাপ্ত রিজার্ভ ট্যাংক) ছিল না।
বহুতল এই বাণিজ্যিক ভবনে জরুরি মুহূর্তে বের হওয়ার জন্য কোনো নিরাপদ বা বিকল্প 'ইমার্জেন্সি এক্সিট' বা জরুরি বহির্গমন পথ ছিল না, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
ভবনের বাইরে এবং ভেতরে বৈদ্যুতিক তার, ইন্টারনেট ও ডিশ লাইনের বিপজ্জনক জটলা ছিল, যা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার ক্ষেত্রে দমকল কর্মীদের জন্য বড় বাধা সৃষ্টি করেছিল।
পুরান ঢাকার চকবাজারের এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করেছে যে, এই অঞ্চলের প্রধান সমস্যা হলো অত্যন্ত সরু রাস্তাঘাট। রাস্তা পর্যাপ্ত প্রশস্ত না হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়িগুলো যথাসময়ে প্রবেশ করতে পারে না, যার ফলে সামান্য আগুনও মুহূর্তের মধ্যে বড় বিপর্যয়ের রূপ ধারণ করতে পারে। খাজা সুপার মার্কেটের এই অগ্নিকাণ্ডটি তার একটি প্রত্যক্ষ ও বাস্তব উদাহরণ।
চকবাজারের হাজী আবুল বাশার সুপার মার্কেটের এই অগ্নিকাণ্ডটি ঢাকা শহরের বাণিজ্যিক ভবনগুলোর অগ্নি নিরাপত্তার চরম ভঙ্গুর দশাকে আবারও উন্মোচিত করেছে। বড় ধরনের প্রাণহানি বা ক্ষয়-ক্ষতি এড়াতে অনতিবিলম্বে পুরান ঢাকার সকল বাণিজ্যিক ভবনে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা উচিত। একই সাথে সরু রাস্তাগুলোর প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং অগ্নি নিরাপত্তা আইন অমান্যকারী ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
গড় রেটিং: ৫/৫ (১ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪০ অপরাহ্ণ
রাজধানী ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত ও ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক এলাকা চকবাজারের আশিক টাওয়ারের ঠিক বিপরীত পাশে অবস্থিত 'হাজী আবুল বাশার সুপার মার্কেটে' একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘিঞ্জি পরিবেশ ও ঘনবসতিপূর্ণ এই বাণিজ্যিক এলাকার ভবনটিতে আগুন লাগার সাথে সাথেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং চারপাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। আতঙ্কিত ব্যবসায়ী ও স্থানীয় মানুষজন দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।
অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পাওয়া মাত্রই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের মোট *"৬টি ইউনিট*" একযোগে কাজ শুরু করে। তবে চকবাজার এলাকার অত্যন্ত সরু রাস্তা এবং যানজটের কারণে দমকল বাহিনীর বিশাল দূরহী গাড়ি এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি ঘটনাস্থলের একদম কাছাকাছি পৌঁছাতে মারাত্মক বেগ পেতে হয়।
এই তীব্র প্রতিকূলতা ও অত্যন্ত সংকীর্ণ পথের বাঁধা অতিক্রম করে ফায়ার সার্ভিসের সাহসী ও দক্ষ কর্মীদের টানা "১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের" অক্লান্ত ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অবশেষে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। দমকল বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপের কারণে আগুন আশেপাশে থাকা অন্যান্য বহুতল ও ঝুঁকিপূর্ণ বাণিজ্যিক ভবনে ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা পেয়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এবং উদ্ধারকারী দল হাজী আবুল বাশার সুপার মার্কেটে সরজমিন অনুসন্ধান ও প্রাথমিক তদন্ত চালান। তদন্তকালে ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম অবহেলা ও গুরুতর ত্রুটিসমূহ পরিলক্ষিত হয়:
সমগ্র মার্কেট ভবনটিতে কোনো প্রকার সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা (যেমন: ফায়ার এক্সটিংগুইশার, ফায়ার হাইড্রেন্ট, বা পানির পর্যাপ্ত রিজার্ভ ট্যাংক) ছিল না।
বহুতল এই বাণিজ্যিক ভবনে জরুরি মুহূর্তে বের হওয়ার জন্য কোনো নিরাপদ বা বিকল্প 'ইমার্জেন্সি এক্সিট' বা জরুরি বহির্গমন পথ ছিল না, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
ভবনের বাইরে এবং ভেতরে বৈদ্যুতিক তার, ইন্টারনেট ও ডিশ লাইনের বিপজ্জনক জটলা ছিল, যা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার ক্ষেত্রে দমকল কর্মীদের জন্য বড় বাধা সৃষ্টি করেছিল।
পুরান ঢাকার চকবাজারের এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করেছে যে, এই অঞ্চলের প্রধান সমস্যা হলো অত্যন্ত সরু রাস্তাঘাট। রাস্তা পর্যাপ্ত প্রশস্ত না হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়িগুলো যথাসময়ে প্রবেশ করতে পারে না, যার ফলে সামান্য আগুনও মুহূর্তের মধ্যে বড় বিপর্যয়ের রূপ ধারণ করতে পারে। খাজা সুপার মার্কেটের এই অগ্নিকাণ্ডটি তার একটি প্রত্যক্ষ ও বাস্তব উদাহরণ।
চকবাজারের হাজী আবুল বাশার সুপার মার্কেটের এই অগ্নিকাণ্ডটি ঢাকা শহরের বাণিজ্যিক ভবনগুলোর অগ্নি নিরাপত্তার চরম ভঙ্গুর দশাকে আবারও উন্মোচিত করেছে। বড় ধরনের প্রাণহানি বা ক্ষয়-ক্ষতি এড়াতে অনতিবিলম্বে পুরান ঢাকার সকল বাণিজ্যিক ভবনে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা উচিত। একই সাথে সরু রাস্তাগুলোর প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং অগ্নি নিরাপত্তা আইন অমান্যকারী ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
