বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীতে বঞ্চনা, অবিচার ও প্রতিহিংসার শিকার হওয়া ১৫০ জন অবসরপ্রাপ্ত, অপসারণকৃত, অব্যাহতিপ্রাপ্ত ও বরখাস্তকৃত (চাকরিচ্যুত) কর্মকর্তাকে পুনর্বাসন, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি এবং বকেয়া আর্থিক সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বুধবার (১ জুলাই ২০২৬) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখায় চাকরিতে বৈষম্য ও প্রতিহিংসার শিকার কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনার জন্য প্রথমে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক একটি কমিটি এবং বাহিনী সদর দপ্তরসমূহ কর্তৃক পর্ষদ গঠন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে গত ৩ মে গঠিত আরেকটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি এসব প্রস্তাব ও সুপারিশ বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। সেই কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশের ভিত্তিতে যথাযথ Authorities-এর অনুমোদনক্রমে এই সরকারি আদেশ জারি করা হয়েছে।
এই আদেশের আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখার সর্বমোট ১৫০ জন অফিসার বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। নিচে এর বিবরণ দেওয়া হলো:
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী: ১১৫ জন কর্মকর্তা
বাংলাদেশ নৌবাহিনী: ২১ জন কর্মকর্তা
বাংলাদেশ বিমানবাহিনী: ১৪ জন কর্মকর্তা
উক্ত কর্মকর্তাদের যোগ্যতা ও বিধি অনুযায়ী স্বাভাবিক অবসর, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতিসহ স্বাভাবিক অবসর, অকালীন (বাধ্যতামূলক) অবসর বা পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি তারা বকেয়া বেতন-ভাতা, আর্থিক সুবিধা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনাও পাবেন।
"জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং এটি বাস্তবায়ন করবে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এ-সংক্রান্ত আগের প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হয়েছে।"
এর আগে, অন্তর্বর্তী সরকার বিগত সরকারের সময় সশস্ত্র বাহিনী থেকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া ১৪১ জন কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দিয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তারা চাকরি ফিরে পাওয়ার আবেদন জানান।
তারই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি বিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত পদ্ধতিগত বৈষম্য ও পেশাগত ক্ষতির শিকার কর্মকর্তাদের আবেদন অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে চূড়ান্ত সুপারিশ পেশ করে।
কমিটির সুপারিশে উল্লেখ করা হয়, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বৈষম্য ও অন্যায়ের শিকার হওয়া কর্মকর্তাদের মান-মর্যাদা পুনরুদ্ধার এবং প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পুনর্বহালের লক্ষ্যেই এই ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৬ পূর্বাহ্ণ
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীতে বঞ্চনা, অবিচার ও প্রতিহিংসার শিকার হওয়া ১৫০ জন অবসরপ্রাপ্ত, অপসারণকৃত, অব্যাহতিপ্রাপ্ত ও বরখাস্তকৃত (চাকরিচ্যুত) কর্মকর্তাকে পুনর্বাসন, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি এবং বকেয়া আর্থিক সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বুধবার (১ জুলাই ২০২৬) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখায় চাকরিতে বৈষম্য ও প্রতিহিংসার শিকার কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনার জন্য প্রথমে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক একটি কমিটি এবং বাহিনী সদর দপ্তরসমূহ কর্তৃক পর্ষদ গঠন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে গত ৩ মে গঠিত আরেকটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি এসব প্রস্তাব ও সুপারিশ বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। সেই কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশের ভিত্তিতে যথাযথ Authorities-এর অনুমোদনক্রমে এই সরকারি আদেশ জারি করা হয়েছে।
এই আদেশের আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখার সর্বমোট ১৫০ জন অফিসার বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। নিচে এর বিবরণ দেওয়া হলো:
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী: ১১৫ জন কর্মকর্তা
বাংলাদেশ নৌবাহিনী: ২১ জন কর্মকর্তা
বাংলাদেশ বিমানবাহিনী: ১৪ জন কর্মকর্তা
উক্ত কর্মকর্তাদের যোগ্যতা ও বিধি অনুযায়ী স্বাভাবিক অবসর, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতিসহ স্বাভাবিক অবসর, অকালীন (বাধ্যতামূলক) অবসর বা পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি তারা বকেয়া বেতন-ভাতা, আর্থিক সুবিধা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনাও পাবেন।
"জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং এটি বাস্তবায়ন করবে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এ-সংক্রান্ত আগের প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হয়েছে।"
এর আগে, অন্তর্বর্তী সরকার বিগত সরকারের সময় সশস্ত্র বাহিনী থেকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া ১৪১ জন কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দিয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তারা চাকরি ফিরে পাওয়ার আবেদন জানান।
তারই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি বিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত পদ্ধতিগত বৈষম্য ও পেশাগত ক্ষতির শিকার কর্মকর্তাদের আবেদন অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে চূড়ান্ত সুপারিশ পেশ করে।
কমিটির সুপারিশে উল্লেখ করা হয়, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বৈষম্য ও অন্যায়ের শিকার হওয়া কর্মকর্তাদের মান-মর্যাদা পুনরুদ্ধার এবং প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পুনর্বহালের লক্ষ্যেই এই ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
