নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) কর্মসূচির আওতায় একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণে নদী থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ্ নূর রহমানের ভূমিকা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার বানিয়াজান ইউনিয়নের বানিয়াজান মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-সংলগ্ন সংযোগ সড়ক নির্মাণে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কাবিখা কর্মসূচির আওতায় ইউপি সদস্য রেণু মিয়াকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়।
প্রকল্পের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং বিধি অনুযায়ী ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশ অর্থ ছাড় করা হয়েছে।
তবে প্রকল্প সভাপতি রেণু মিয়া দাবি করেন, বরাদ্দকৃত অর্থে কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে তিনি অনাগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এরপর উপজেলা প্রশাসন নিজ উদ্যোগে কাজ পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়সংলগ্ন একটি সরকারি পরিত্যক্ত খালের ওপর দুই পাশে বাঁধ দিয়ে ভরাট করে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে ইতোমধ্যে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার ঘনফুট সাদা ভিটি বালু ফেলা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানের তীব্র বাঁকের কারণে যান চলাচলে ভোগান্তি থাকায় স্থানীয়রা সড়ক নির্মাণকে স্বাগত জানালেও প্রকল্প বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলায় কোনো বৈধ বালুমহাল না থাকা সত্ত্বেও ভরতোষীর চর এলাকা থেকে রাতের আঁধারে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এতে সরকারি উন্নয়নকাজের আড়ালে অবৈধভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ এবং নদীর তীর ভাঙনসহ পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া বলেন, বৈধভাবে ভৈরব ঘাট থেকে বালু আনতে প্রতি ঘনফুটে প্রায় ১৯ টাকা খরচ হয়।
কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ টাকা ঘনফুট দরে বালু সরবরাহের কথা বলা হয়। পরে প্রশাসনকে জানিয়েই ভরতোষীর চর এলাকা থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে প্রকল্পে সরবরাহ করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইটাখলা এলাকার এক বাসিন্দা জানান, গত কয়েকদিন ধরে রাতের বেলা দুই থেকে তিনটি নৌকায় ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে রাস্তার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ ছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, কাগজে-কলমে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি থাকলেও বাস্তবে উপজেলা প্রশাসন সরাসরি কাজ পরিচালনা করছে। তাদের দাবি, এ ধরনের পদ্ধতিতে উপজেলার আরও কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে।
প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্য রেণু মিয়া বলেন, “আমাকে সভাপতি করা হলেও বরাদ্দের অর্থে কাজ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছিলাম। বর্তমানে প্রশাসনই কাজ পরিচালনা করছে।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আব্দুল মমিন বলেন, কাবিখা কর্মসূচির আওতায় প্রকল্পটির জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশ অর্থ ছাড় করা হয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ ছাড় করা হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ্ নূর রহমানের কার্যালয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি। এছাড়া তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এ বিষয়ে নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, “লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ণ
নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) কর্মসূচির আওতায় একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণে নদী থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ্ নূর রহমানের ভূমিকা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার বানিয়াজান ইউনিয়নের বানিয়াজান মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-সংলগ্ন সংযোগ সড়ক নির্মাণে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কাবিখা কর্মসূচির আওতায় ইউপি সদস্য রেণু মিয়াকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়।
প্রকল্পের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং বিধি অনুযায়ী ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশ অর্থ ছাড় করা হয়েছে।
তবে প্রকল্প সভাপতি রেণু মিয়া দাবি করেন, বরাদ্দকৃত অর্থে কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে তিনি অনাগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এরপর উপজেলা প্রশাসন নিজ উদ্যোগে কাজ পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়সংলগ্ন একটি সরকারি পরিত্যক্ত খালের ওপর দুই পাশে বাঁধ দিয়ে ভরাট করে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে ইতোমধ্যে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার ঘনফুট সাদা ভিটি বালু ফেলা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানের তীব্র বাঁকের কারণে যান চলাচলে ভোগান্তি থাকায় স্থানীয়রা সড়ক নির্মাণকে স্বাগত জানালেও প্রকল্প বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলায় কোনো বৈধ বালুমহাল না থাকা সত্ত্বেও ভরতোষীর চর এলাকা থেকে রাতের আঁধারে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এতে সরকারি উন্নয়নকাজের আড়ালে অবৈধভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ এবং নদীর তীর ভাঙনসহ পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া বলেন, বৈধভাবে ভৈরব ঘাট থেকে বালু আনতে প্রতি ঘনফুটে প্রায় ১৯ টাকা খরচ হয়।
কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ টাকা ঘনফুট দরে বালু সরবরাহের কথা বলা হয়। পরে প্রশাসনকে জানিয়েই ভরতোষীর চর এলাকা থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে প্রকল্পে সরবরাহ করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইটাখলা এলাকার এক বাসিন্দা জানান, গত কয়েকদিন ধরে রাতের বেলা দুই থেকে তিনটি নৌকায় ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে রাস্তার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ ছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, কাগজে-কলমে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি থাকলেও বাস্তবে উপজেলা প্রশাসন সরাসরি কাজ পরিচালনা করছে। তাদের দাবি, এ ধরনের পদ্ধতিতে উপজেলার আরও কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে।
প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্য রেণু মিয়া বলেন, “আমাকে সভাপতি করা হলেও বরাদ্দের অর্থে কাজ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছিলাম। বর্তমানে প্রশাসনই কাজ পরিচালনা করছে।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আব্দুল মমিন বলেন, কাবিখা কর্মসূচির আওতায় প্রকল্পটির জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশ অর্থ ছাড় করা হয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ ছাড় করা হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ্ নূর রহমানের কার্যালয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি। এছাড়া তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এ বিষয়ে নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, “লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
