নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় চুরির অভিযোগে এক কিশোরকে জনসম্মুখে মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশ সদস্য রতন রবি দাশকে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী কিশোর মো. রাব্বিল (১৪) উপজেলার বানাইকোনা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। অভিযুক্ত রতন রবি দাশ পাচগাঁও গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের একজন গ্রাম পুলিশ সদস্য।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পাচগাঁও বাজারের একটি হার্ডওয়্যার দোকানে চুরির অভিযোগ ওঠে। পরে সন্দেহভাজন হিসেবে রাব্বিলকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তার কাছ থেকে সাত হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ না করে উপস্থিত লোকজনের সামনেই তাকে অপমানজনক শাস্তি দেওয়া হয়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোরটি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বারবার ক্ষমা প্রার্থনা করছে এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবে না বলে অনুরোধ জানাচ্ছে। কিন্তু তার আকুতি উপেক্ষা করে প্রকাশ্যেই মাথার সব চুল কেটে দেওয়া হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়।
আটকের পর অভিযুক্ত রতন রবি দাশ দাবি করেন, তিনি বাজারে একটি সেলুন পরিচালনা করেন। তার ভাষ্য, স্থানীয় কয়েকজনের চাপে এবং একশ টাকা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে তিনি কিশোরটির মাথা ন্যাড়া করতে বাধ্য হন। এ ঘটনায় তিনি অনুতপ্ত বলেও জানান।
রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল বলেন, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তিনি অভিযুক্তকে শনাক্ত করে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর পুলিশ তাকে আটক করে এবং ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পাশাপাশি বিভাগীয় ব্যবস্থার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।
কলমাকান্দা থানার তদন্ত পরিদর্শক সজল সরকার জানান, ঘটনার প্রধান অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পুলিশকে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একজন গ্রাম পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে একজন কিশোরকে প্রকাশ্যে অপমানজনক শাস্তি দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আর না ঘটে।
(অনলাইন)
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ০৬:৩৫ অপরাহ্ণ
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় চুরির অভিযোগে এক কিশোরকে জনসম্মুখে মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশ সদস্য রতন রবি দাশকে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী কিশোর মো. রাব্বিল (১৪) উপজেলার বানাইকোনা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। অভিযুক্ত রতন রবি দাশ পাচগাঁও গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের একজন গ্রাম পুলিশ সদস্য।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পাচগাঁও বাজারের একটি হার্ডওয়্যার দোকানে চুরির অভিযোগ ওঠে। পরে সন্দেহভাজন হিসেবে রাব্বিলকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তার কাছ থেকে সাত হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ না করে উপস্থিত লোকজনের সামনেই তাকে অপমানজনক শাস্তি দেওয়া হয়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোরটি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বারবার ক্ষমা প্রার্থনা করছে এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবে না বলে অনুরোধ জানাচ্ছে। কিন্তু তার আকুতি উপেক্ষা করে প্রকাশ্যেই মাথার সব চুল কেটে দেওয়া হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়।
আটকের পর অভিযুক্ত রতন রবি দাশ দাবি করেন, তিনি বাজারে একটি সেলুন পরিচালনা করেন। তার ভাষ্য, স্থানীয় কয়েকজনের চাপে এবং একশ টাকা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে তিনি কিশোরটির মাথা ন্যাড়া করতে বাধ্য হন। এ ঘটনায় তিনি অনুতপ্ত বলেও জানান।
রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল বলেন, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তিনি অভিযুক্তকে শনাক্ত করে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর পুলিশ তাকে আটক করে এবং ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পাশাপাশি বিভাগীয় ব্যবস্থার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।
কলমাকান্দা থানার তদন্ত পরিদর্শক সজল সরকার জানান, ঘটনার প্রধান অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পুলিশকে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একজন গ্রাম পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে একজন কিশোরকে প্রকাশ্যে অপমানজনক শাস্তি দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আর না ঘটে।
(অনলাইন)
