প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে যখন অধিকাংশ তরুণ-তরুণী মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভার্চুয়াল বিনোদনে ব্যস্ত, ঠিক তখনই নেত্রকোনার এক তরুণী আত্মনিয়োগ করেছেন সুস্থ জীবনচর্চার এক ব্যতিক্রমী অভিযাত্রায়। নিয়মিত যোগব্যায়াম (ইউগা) চর্চার মাধ্যমে তিনি শুধু নিজের শারীরিক ও মানসিক বিকাশই ঘটাচ্ছেন না, বরং স্বাস্থ্যসচেতন সমাজ গঠনের নীরব দূত হয়ে উঠেছেন। তিনি শ্যামা আচার্য্য চৈতী।
নেত্রকোনা শহরের নাগড়া এলাকার ট্রাফিক পুলিশ নারায়ন আচার্য্যের কন্যা শ্যামা আচার্য্য চৈতী বর্তমানে এইচএসসি ও ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার শিক্ষায় অধ্যয়নরত। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি নিজেকে যুক্ত করেছেন পেশাদার যোগব্যায়াম চর্চা ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে। অল্প বয়সেই তার এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।
চৈতী জানান, পরিবার—বিশেষ করে মা-বাবার উৎসাহ এবং নিজের গভীর আগ্রহ থেকেই তার যোগব্যায়ামের যাত্রা শুরু। প্রথমদিকে ব্যক্তিগত সুস্থতা ও মানসিক প্রশান্তির জন্য অনুশীলন করলেও ধীরে ধীরে এটি তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়। পরে পেশাগত দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি সফলভাবে সম্পন্ন করেন "ইন্টারন্যাশনাল ইউগা টিচার্স ট্রেনিং কোর্স–২০০০"। এছাড়া ভারতের ব্যাঙ্গালোরে উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি দেশীয় বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতেও অংশ নিয়ে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত যোগব্যায়াম শরীর ও মনের সার্বিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা, রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি, মানসিক চাপ কমানো, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করা এবং ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েড সমস্যা, স্থূলতা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় রাখা, শ্বাসপ্রশ্বাসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শরীরের বিপাকক্রিয়া উন্নত করতেও যোগব্যায়ামের কার্যকারিতা প্রমাণিত।
একান্ত সাক্ষাৎকারে শ্যামা আচার্য্য চৈতী বলেন,
"ইউগা শুধু শরীরচর্চা নয়; এটি আত্মিক প্রশান্তি, মানসিক ভারসাম্য এবং সুস্থ জীবন গঠনের একটি বিজ্ঞানসম্মত অনুশীলন। বর্তমান সময়ে তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তি, হতাশা, উদ্বেগ ও নানা শারীরিক সমস্যা বাড়ছে। আমি বিশ্বাস করি, নিয়মিত ও সঠিকভাবে যোগব্যায়াম চর্চা করলে এসব সমস্যা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।"
তিনি আরও বলেন,
"শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত যোগব্যায়াম প্রশিক্ষণ চালু করা সময়ের দাবি। ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের সুস্থ জীবনধারার সঙ্গে পরিচিত করে তুলতে হবে। ভবিষ্যতে আমি একটি আধুনিক যোগব্যায়াম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শিশু-কিশোর ও তরুণরা নিয়মিত প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবে।"
চৈতীর বিশ্বাস, সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি হলে দেশের তরুণ সমাজকে আরও স্বাস্থ্যসচেতন ও আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাত্রায় শিশু-কিশোরদের শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়ায় স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, মানসিক চাপ ও বিষণ্নতার মতো সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় শ্যামা আচার্য্য চৈতীর মতো তরুণদের উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে সুস্থ, সচেতন ও ইতিবাচক জীবনধারার পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে।
সবশেষে চৈতীর আহ্বান,
"সুস্থ দেহ ও সুন্দর মন নিয়ে বাঁচতে হলে প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় নিজের শরীর ও মনের জন্য ব্যয় করুন। নিয়মিত যোগব্যায়াম চর্চার কোনো বিকল্প নেই।"
নেত্রকোনার এই তরুণীর স্বপ্ন—একদিন যোগব্যায়াম শুধু ব্যক্তিগত অনুশীলনে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সমাজে স্বাস্থ্যসচেতনতার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যেই অসংখ্য তরুণ-তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ণ
প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে যখন অধিকাংশ তরুণ-তরুণী মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভার্চুয়াল বিনোদনে ব্যস্ত, ঠিক তখনই নেত্রকোনার এক তরুণী আত্মনিয়োগ করেছেন সুস্থ জীবনচর্চার এক ব্যতিক্রমী অভিযাত্রায়। নিয়মিত যোগব্যায়াম (ইউগা) চর্চার মাধ্যমে তিনি শুধু নিজের শারীরিক ও মানসিক বিকাশই ঘটাচ্ছেন না, বরং স্বাস্থ্যসচেতন সমাজ গঠনের নীরব দূত হয়ে উঠেছেন। তিনি শ্যামা আচার্য্য চৈতী।
নেত্রকোনা শহরের নাগড়া এলাকার ট্রাফিক পুলিশ নারায়ন আচার্য্যের কন্যা শ্যামা আচার্য্য চৈতী বর্তমানে এইচএসসি ও ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার শিক্ষায় অধ্যয়নরত। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি নিজেকে যুক্ত করেছেন পেশাদার যোগব্যায়াম চর্চা ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে। অল্প বয়সেই তার এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।
চৈতী জানান, পরিবার—বিশেষ করে মা-বাবার উৎসাহ এবং নিজের গভীর আগ্রহ থেকেই তার যোগব্যায়ামের যাত্রা শুরু। প্রথমদিকে ব্যক্তিগত সুস্থতা ও মানসিক প্রশান্তির জন্য অনুশীলন করলেও ধীরে ধীরে এটি তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়। পরে পেশাগত দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি সফলভাবে সম্পন্ন করেন "ইন্টারন্যাশনাল ইউগা টিচার্স ট্রেনিং কোর্স–২০০০"। এছাড়া ভারতের ব্যাঙ্গালোরে উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি দেশীয় বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতেও অংশ নিয়ে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত যোগব্যায়াম শরীর ও মনের সার্বিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা, রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি, মানসিক চাপ কমানো, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করা এবং ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েড সমস্যা, স্থূলতা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় রাখা, শ্বাসপ্রশ্বাসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শরীরের বিপাকক্রিয়া উন্নত করতেও যোগব্যায়ামের কার্যকারিতা প্রমাণিত।
একান্ত সাক্ষাৎকারে শ্যামা আচার্য্য চৈতী বলেন,
"ইউগা শুধু শরীরচর্চা নয়; এটি আত্মিক প্রশান্তি, মানসিক ভারসাম্য এবং সুস্থ জীবন গঠনের একটি বিজ্ঞানসম্মত অনুশীলন। বর্তমান সময়ে তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তি, হতাশা, উদ্বেগ ও নানা শারীরিক সমস্যা বাড়ছে। আমি বিশ্বাস করি, নিয়মিত ও সঠিকভাবে যোগব্যায়াম চর্চা করলে এসব সমস্যা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।"
তিনি আরও বলেন,
"শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত যোগব্যায়াম প্রশিক্ষণ চালু করা সময়ের দাবি। ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের সুস্থ জীবনধারার সঙ্গে পরিচিত করে তুলতে হবে। ভবিষ্যতে আমি একটি আধুনিক যোগব্যায়াম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শিশু-কিশোর ও তরুণরা নিয়মিত প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবে।"
চৈতীর বিশ্বাস, সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি হলে দেশের তরুণ সমাজকে আরও স্বাস্থ্যসচেতন ও আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাত্রায় শিশু-কিশোরদের শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়ায় স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, মানসিক চাপ ও বিষণ্নতার মতো সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় শ্যামা আচার্য্য চৈতীর মতো তরুণদের উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে সুস্থ, সচেতন ও ইতিবাচক জীবনধারার পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে।
সবশেষে চৈতীর আহ্বান,
"সুস্থ দেহ ও সুন্দর মন নিয়ে বাঁচতে হলে প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় নিজের শরীর ও মনের জন্য ব্যয় করুন। নিয়মিত যোগব্যায়াম চর্চার কোনো বিকল্প নেই।"
নেত্রকোনার এই তরুণীর স্বপ্ন—একদিন যোগব্যায়াম শুধু ব্যক্তিগত অনুশীলনে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সমাজে স্বাস্থ্যসচেতনতার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যেই অসংখ্য তরুণ-তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
