রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
ONE NEWS EXPRESS

অবৈধ বালু উত্তোলন যমুনার চরে নদীপথে সশস্ত্র চাঁদাবাজি


​নিজস্ব প্রতিবেদক:
​নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৭:০১ অপরাহ্ণ | প্রিন্ট | ডাউনলোড কার্ড

অবৈধ বালু উত্তোলন যমুনার চরে নদীপথে সশস্ত্র চাঁদাবাজি

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীবেষ্টিত আলোকদিয়া চরাঞ্চলে অবৈধ বালু উত্তোলন,নদীপথে চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়।

সম্প্রতি এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যমুনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ একটি চক্র নদীপথে আধিপত্য বিস্তার করেছে। স্থানীয়দের দাবি, চক্রটির সদস্যরা সশস্ত্র সহযোগীদের মাধ্যমে নদীতে চলাচলকারী বিভিন্ন নৌযান ও বাল্কহেড থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে একটি মহল জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনার নিকটবর্তী নদী অংশে একাধিক শক্তিশালী সেকশন কাটার ড্রেজার বসিয়ে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তৎপরতা প্রায় অনুপস্থিত।

স্থানীয়দের মতে,অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীভাঙনের ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে শত শত পরিবারের বসতবাড়ি,কৃষিজমি ও জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতির প্রতিবাদে এলাকাবাসী একাধিকবার মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করলেও দৃশ্যমান কোনো সমাধান মেলেনি বলে অভিযোগ করেন তারা।

ভুক্তভোগীরা জানান,নৌপুলিশ,কোস্ট গার্ড ও জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে জেলা প্রশাসকের কাছেও অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন,২০১০ অনুযায়ী জনবসতিপূর্ণ এলাকা,গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা এবং নির্ধারিত সুরক্ষিত সীমার মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ। 

আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, তা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে না। গত ১৫ জুন সরেজমিন পরিদর্শনে আলোকদিয়া চর সংলগ্ন যমুনা নদীতে পাঁচ থেকে ছয়টি ড্রেজার সক্রিয় অবস্থায় দেখা যায়। একই সঙ্গে শতাধিক বাল্কহেডে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের দৃশ্যও লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব কার্যক্রম জনবসতির অতি নিকটবর্তী এলাকায় পরিচালিত হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান,জেলা প্রশাসক নাহমুন আরা সুলতানা একটি সরকারি সভায় ব্যস্ত থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। 

তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আলি বলেন,“বিষয়টি সম্পর্কে আমি আংশিক অবগত আছি। অভিযোগের বিষয়গুলো জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।”

এদিকে দিনের পর দিন প্রকাশ্যে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন, নদীপথে চাঁদাবাজি এবং সশস্ত্র আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

তারা অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা জনপদ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি করেন।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

ONE NEWS EXPRESS

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬


অবৈধ বালু উত্তোলন যমুনার চরে নদীপথে সশস্ত্র চাঁদাবাজি

প্রকাশের তারিখ : মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৭:০১ অপরাহ্ণ

featured Image

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীবেষ্টিত আলোকদিয়া চরাঞ্চলে অবৈধ বালু উত্তোলন,নদীপথে চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়।

সম্প্রতি এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যমুনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ একটি চক্র নদীপথে আধিপত্য বিস্তার করেছে। স্থানীয়দের দাবি, চক্রটির সদস্যরা সশস্ত্র সহযোগীদের মাধ্যমে নদীতে চলাচলকারী বিভিন্ন নৌযান ও বাল্কহেড থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে একটি মহল জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনার নিকটবর্তী নদী অংশে একাধিক শক্তিশালী সেকশন কাটার ড্রেজার বসিয়ে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তৎপরতা প্রায় অনুপস্থিত।

স্থানীয়দের মতে,অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীভাঙনের ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে শত শত পরিবারের বসতবাড়ি,কৃষিজমি ও জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতির প্রতিবাদে এলাকাবাসী একাধিকবার মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করলেও দৃশ্যমান কোনো সমাধান মেলেনি বলে অভিযোগ করেন তারা।

ভুক্তভোগীরা জানান,নৌপুলিশ,কোস্ট গার্ড ও জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে জেলা প্রশাসকের কাছেও অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন,২০১০ অনুযায়ী জনবসতিপূর্ণ এলাকা,গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা এবং নির্ধারিত সুরক্ষিত সীমার মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ। 

আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, তা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে না। গত ১৫ জুন সরেজমিন পরিদর্শনে আলোকদিয়া চর সংলগ্ন যমুনা নদীতে পাঁচ থেকে ছয়টি ড্রেজার সক্রিয় অবস্থায় দেখা যায়। একই সঙ্গে শতাধিক বাল্কহেডে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের দৃশ্যও লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব কার্যক্রম জনবসতির অতি নিকটবর্তী এলাকায় পরিচালিত হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান,জেলা প্রশাসক নাহমুন আরা সুলতানা একটি সরকারি সভায় ব্যস্ত থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। 

তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আলি বলেন,“বিষয়টি সম্পর্কে আমি আংশিক অবগত আছি। অভিযোগের বিষয়গুলো জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।”

এদিকে দিনের পর দিন প্রকাশ্যে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন, নদীপথে চাঁদাবাজি এবং সশস্ত্র আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

তারা অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা জনপদ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি করেন।


ONE NEWS EXPRESS

সম্পাদক ও প্রকাশক- মো: মনিরুজ্জামান
সহ-সম্পাদক: তুহিন আহসান
বার্তা সম্পাদক: তামিমা জান্নাত

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
অবৈধ বালু উত্তোলন যমুনার চরে নদীপথে সশস্ত্র চাঁদাবাজি
0:00 / 0:00
1x