রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
ONE NEWS EXPRESS

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা ঈদগাহ মাঠে সবুজায়নে রোপণ হবে ৫০০ গাছ

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান-এর নির্দেশনায় দেশব্যাপী চলমান বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় এক ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।১৩ জুলাই (সোমবার) শাল্লা উপজেলা সদর ঈদগাহ মাঠে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন শাল্লা উপজেলার মানবিক ও দূরদর্শী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পিয়াস দাস।​এই কর্মসূচির আওতায় ঈদগাহ মাঠ ও এর আশেপাশে পাঁচ শত (৫০০) বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে পরিবেশবান্ধব ও সৌন্দর্যবর্ধক চেরি (চেহেরী), পলাশ, বকুল, শিমুল ও করচ গাছ।​স্থানীয় সচেতন মহল ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঈদগাহ মাঠের মতো একটি পবিত্র, গুরুত্বপূর্ণ ও জনাকীর্ণ স্থানে গাছ লাগানোর এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তীব্র তাপদাহের কারণে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন এই সবুজায়ন উদ্যোগ ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনবে। এর ফলে পবিত্র ঈদের নামাজে আসা হাজারো মুসল্লিসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষ তীব্র গরমে চেরি, পলাশ ও বকুলের শীতল ছায়া, সুবাস ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ পাবেন।​উক্ত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাল্লা উপজেলা কৃষি অফিসার, উপজেলা প্রকৌশলী (ইঞ্জিনিয়ার), শাল্লা থানার এসআই ইমাম আরেফিন এবং উপজেলা কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক একরামুল হোসেন।​বৃক্ষরোপণকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিয়াস দাস বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি নিরাপদ ও সবুজ পৃথিবী উপহার দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 'একটি গাছ, একটি প্রাণ'—এই স্লোগানকে কেবল মুখে নয় আমাদের কর্মে প্রমাণ করতে হবে। পরিবেশ রক্ষা করা আমাদের সবার নাগরিক দায়িত্ব।​অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ মানুষ এই মানবিক ও কল্যাণমুখী উদ্যোগের তীব্র প্রশংসা করেন। তারা মনে করেন, প্রতিটি উপজেলায় সরকারি কর্মকর্তাদের এমন আন্তরিক ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে দেশ দ্রুতই একটি সুজলা-সুফলা ও জলবায়ু-সহনশীল রাষ্ট্রে পরিণত হবে।​পরিবেশবিদদের মতে, হাওড় বেষ্টিত শাল্লা অঞ্চলে বজ্রপাত রোধ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত বন্যা ও মাটি ক্ষয় নিয়ন্ত্রণে করচ ও শিমুলের মতো স্থানীয় প্রজাতির গাছ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করতে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে এবং গ্রামে গ্রামে এই সবুজায়ন আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা ঈদগাহ মাঠে সবুজায়নে রোপণ হবে ৫০০ গাছ