দিনাজপুরে থানার ভেতরে দায়িত্ব পালনরত এক সিআইডি কর্মকর্তাকে গালিগালাজ, থাপ্পড় ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব মো. মজিবর রহমান মজিবকে (৫৬) আটক করেছে পুলিশ।রোববার (৯ আগস্ট) রাতে এ ঘটনায় সিআইডি পরিদর্শক (নি.) নওয়াবুর রহমান বাদী হয়ে দিনাজপুর কোতয়ালী থানায় মামলা করেন। মামলায় মজিবর রহমান ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে একটি হত্যা মামলার নথিপত্র সংগ্রহ এবং মামলাটির আগের তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে কোতয়ালী থানায় যান সিআইডি কর্মকর্তা নওয়াবুর রহমান। রাত ৯টা ৩৮ মিনিটের দিকে থানার ওসি কক্ষের সামনে গেলে এক ব্যক্তি তার কাছে ওসি কোথায় জানতে চান।এ সময় নওয়াবুর রহমান নিজেকে সিআইডি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জানান, একটি মামলার তদন্তের কাজে থানায় এসেছেন। তবে ওসি কোথায় আছেন, তা তিনি জানেন না বলে জানান।এজাহারে অভিযোগ করা হয়, এতে ওই ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে নওয়াবুর রহমানকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। তিনি প্রতিবাদ করলে সঙ্গে থাকা আরও দুজনের উসকানিতে মজিবর রহমান তার ডান গালে সজোরে থাপ্পড় মারেন।ঘটনার সময় থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে থাকা এসআই মো. মানিক রানা, এসআই মো. মমিনুর রহমান ও কনস্টেবল মো. রফিকুল ইসলামসহ অন্য পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।এজাহার অনুযায়ী, পুলিশ সদস্যরা নওয়াবুর রহমানের পরিচয় নিশ্চিত করার পর অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এ সময় তাকে এবং পুলিশ পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ করে অশ্লীল ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজিবর রহমানকে থানা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের নাম ও পরিচয় জানান। তবে তার সঙ্গে থাকা অপর দুজন কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।সিআইডি কর্মকর্তা নওয়াবুর রহমান বলেন, ঘটনার পর তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান। পরে চিকিৎসা নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে থানায় মামলা করেন।মামলার সঙ্গে চিকিৎসাপত্রের মূল কপি এবং ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংবলিত একটি পেনড্রাইভও জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।কোতয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ নূরনবী বলেন, থানায় দায়িত্ব পালনকালে সিআইডির এক পুলিশ পরিদর্শকের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাতেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।