রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
ONE NEWS EXPRESS

নতুন পানিতে চাঙা চলনবিল

কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিল অঞ্চলে নতুন পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। নতুন পানির টানে বিলের জলাশয়গুলোতে দেশি প্রজাতির ছোট মাছের আমদানি এক লাফে বহুগুণ বেড়েছে। ফলে চলনবিল অধ্যুষিত সিংড়া উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার এখন দেশি মাছের সমারোহে মুখর হয়ে উঠেছে।জেলেদের দাবি, গত তিন দিন ধরে তাদের জালে ধরা পড়ছে প্রচুর দেশি প্রজাতির মাছ। সিংড়া বাসস্ট্যান্ডের সকালের মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় দুই শতাধিক পেশাদার ও মৌসুমী জেলে টেংরা, পুঁটি, কৈ, শোল, শিং, গুচিসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ বিক্রি করছেন।পৌরসভার চকসিংড়া গ্রামের জেলে মালেক সরদার বলেন, কয়েক দিন ধরে বিলে ভালোই মাছ পাওয়া যাচ্ছে। নতুন পানিতে মাছের চলাচল বেড়েছে। তবে জাল ফেললেই মাছের সঙ্গে ডিমওয়ালা ছোট মাছও উঠে আসছে।তবে নতুন পানির এই প্রাচুর্যের মধ্যেও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবীণ জেলে অভিযোগ করেন, বর্তমানে অনেকেই নিষিদ্ধ 'চায়না দুয়ারি জাল' ব্যবহার করছেন। এতে বোয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ছে, যা ভবিষ্যতে দেশি মাছের উৎপাদনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।এদিকে মাছের সরবরাহ বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু দাম এখনও সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। সিংড়া বাসস্ট্যান্ড বাজারে মাছ কিনতে আসা স্কুল শিক্ষক জয়নাল আবেদীন বলেন, "মাছের আমদানি বেশি হলেও দামে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে নতুন পানির দেশি মাছের স্বাদের জন্য একটু বেশি দাম দিয়েই কিনতে হচ্ছে। বাজার ঘুরে জানা যায়, বর্তমানে মাঝারি চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ টাকা, ছোট গুচি ৬০০ টাকা, মাঝারি গুচি ৮০০ টাকা, টেংরা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, ছোট পুঁটি ১০০ টাকা, মাঝারি পুঁটি ২০০ টাকা, কৈ মাছ ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, চান্দা মাছ ২০০ টাকা, শোল মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং মাঝারি বোয়াল মাছ ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।শুধু সিংড়া বাসস্ট্যান্ড বাজারেই নয়, উপজেলার চলনবিল অধ্যুষিত ডাহিয়া, সাতপুকুরিয়া, বিয়াশ ও জামতলী এলাকার সাপ্তাহিক হাটেও দেশি মাছের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সরবরাহ বাড়ায় ডাহিয়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে একটি অস্থায়ী পাইকারি মাছের আড়ৎ, যেখানে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত খুচরা ও পাইকারি কেনাবেচা চলে। একইভাবে পারিল ব্রিজ ও বিয়াশ মাবিয়া মোড় এলাকাতেও গড়ে উঠেছে অস্থায়ী মাছের বাজার। এসব বাজার থেকে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকার মাছ ট্রাক ও পিকআপযোগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে।'চলনবিল সমাজ কল্যাণ সংস্থার' সভাপতি ও সাপ্তাহিক উত্তর গণজীবন পত্রিকার সম্পাদক মো. আব্দুর রশিদ বলেন, নতুন পানির কারণে চলনবিলে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। তবে দেশি মাছের এই প্রাচুর্য ধরে রাখতে ডিমওয়ালা মাছ ও পোনা রক্ষায় নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনকে আরও কঠোর অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

নতুন পানিতে চাঙা চলনবিল