বগুড়ার গাবতলীতে ড্রেজারে বালু উত্তোলনের উৎসব
গাবতলী উপজেলার সুখানপুকুর ইউনিয়নের তেলিহাটা কুঁচামারিতে, মিন্টুর ভাটার পূর্ব পাশে জমি থেকে বালুদস্যু রব্বানী ও জুয়েল দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ড্রেজার মেশিন বসিয়ে প্রকাশ্যে কৃষিজমির পেটে চালানো হচ্ছে এই ধ্বংসযজ্ঞ।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুচামাড়ি বিলে ড্রেজার দিয়ে অবিরত বালু তুলে বিশাল স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। সেখানে বেশ কয়েকজন শ্রমিককে বালু সরানো এবং চারপাশে উঁচু বাঁধ নির্মাণের কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে কর্মরত এক শ্রমিক জানান, দীর্ঘদিন ধরেই রব্বানী ও জুয়েল সিন্ডিকেট এই এলাকা থেকে বালু তুলছে এবং সবাই রব্বানীকে ‘বড়ভাই’ বলেই জানে।অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা রব্বানী মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কুচামাড়ি এলাকায় ড্রেজার চালিয়ে বালু উত্তোলনের কথা অকপটে স্বীকার করেন। মোবাইলে তিনি দাবি করেন, স্থানীয় প্রশাসন এবং কিছু সাংবাদিককে "ম্যানেজ" করেই দীর্ঘ দিন ধরে এই কারবার পরিচালিত হচ্ছে। সবাই কেন তাকে ‘বড়ভাই’ বলে ডাকে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি দম্ভোক্তি করে বলেন, "সবাই আমার কাছ থেকে টাকা নেয়, তাই ফোন করে বড়ভাই বলে। সুবিধা মতো সময়ে টাকা পাঠিয়ে দিই।"স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই অবৈধ বালু সিন্ডিকেটে প্রায় ২০ জন শ্রমিক কাজ করেন। মূল অভিযুক্ত রব্বানী মিয়ার বাড়ি কুচামাড়ি সংলগ্ন বাঙাবাড়ি গ্রামে এবং তার সহযোগী জুয়েল মিয়ার বাড়ি সরধনকুঠি গ্রামে। প্রভাবশালী এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার বসিয়ে বালু বিক্রি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।এ- বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগাযোগ করা হলে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) আমিনুল ইসলাম বলেন, "বিষয়টি আপনি ইউএনও স্যারকে জানান, এ বিষয়ে আমি কিছু করতে পারবো না।" পরবর্তীতে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-র ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।কৃষিজমি, পরিবেশ ও গ্রামীণ অবকাঠামোর ভারসাম্য রক্ষায় এই বালুদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে অবিলম্বে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও কঠোর শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।