রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
ONE NEWS EXPRESS

স্বামীর করা অপহরণ মামলা ভিত্তিহীন দাবি গৃহবধূর

জামালপুর সদর উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে স্বামীর দায়ের করা অপহরণের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন এক গৃহবধূ। একই সঙ্গে তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের মাদকাসক্তি ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন।​ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে উসমান গনি নামের এক ব্যক্তি তার স্ত্রী মীম আক্তার ও সন্তানদের অপহরণ করা হয়েছে মর্মে জামালপুর সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগে শরীফপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. মানিক মিয়ার নাম জড়ানো হয়।​পরবর্তীতে গত ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে গণমাধ্যমের সামনে এসে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন গৃহবধূ মীম আক্তার। তিনি জানান, তিনি মূলত কোনো অপহরণের শিকার হননি। স্বামীর মাদকাসক্তি ও নিয়মিত নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে এবং অতিষ্ঠ হয়ে তিনি নিজের ইচ্ছায় ঢাকায় চলে আসেন এবং সন্তানরা তার নানির কাছে নিরাপদে রয়েছে। দীর্ঘদিন ঢাকায় অবস্থান করার পর তিনি ২৮ জুলাই সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেন।​এদিকে, অপহরণ মামলার এজাহারে নাম আসার কারণে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় শ্রমিকদল নেতা মো. মানিক মিয়া। তিনি বলেন, "এই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগের কারণে আমার সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এমনকি আমাকে শরীফপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকেও অন্যায়ভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।" তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন এমপির নিকট একটি নিরপেক্ষ তদন্ত ও তার স্থগিত হওয়া সাংগঠনিক পদ পুনর্বহালের জোরালো আবেদন জানিয়েছেন।​মীম আক্তারের এমন চাঞ্চল্যকর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর পুরো এলাকজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পুরো ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি।​তবে এই প্রতিবেদনের বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী উসমান গনির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।​বর্তমানে এই ঘটনার আসল সত্যতা উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।

স্বামীর করা অপহরণ মামলা ভিত্তিহীন দাবি গৃহবধূর