রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ONE NEWS EXPRESS

মাদক কারবারি ধরিয়ে দিয়ে বিপাকে ছাত্র

মাদক কারবারিকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিয়ে পুরস্কার তো দূরের কথা, উল্টো হুমকি আর মিথ্যা মামলার ভয় পাচ্ছেন এক কলেজ ছাত্র। বাগেরহাটের শরণখোলায় এমন ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।অভিযোগকারী মো. শফিকুল ইসলাম মুসা শরণখোলা উপজেলার মঠেরপাড় এলাকার বাসিন্দা। সোমবার (৩ আগস্ট) তিনি বাগেরহাটের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। সঙ্গে অডিও কল রেকর্ড ও ভিডিও ফুটেজও জমা দিয়েছেন বলে দাবি করেন।অভিযোগে মুসা বলেন, রবিবার (২ আগস্ট) বিকেলে শরণখোলা থানা এলাকায় কথিত মাদক কারবারি ইলিয়াস তালুকদারকে দেখে তিনি পুলিশকে খবর দেন। ওসি রোকেয়া খানমের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইলিয়াসকে আটক করে।এরপরই বিপত্তি। মুসার অভিযোগ, আটকের পর ওসি তাকে ফোন করে ১০০ পিস ইয়াবা নিয়ে থানায় আসতে বলেন। তিনি অপারগতা জানালে পরে ওসির বডিগার্ড নাহিদ হাসান সুমনের মাধ্যমে ৫০ পিস ইয়াবা থানার গেটে রেখে যেতে বলা হয়।রাজি না হওয়ায় শুরু হয় হুমকি। "ইয়াবা না দিলে মাদক চোরাচালানের মিথ্যা মামলা দেওয়া হবে" - এমন ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি। থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যও "উপরের নির্দেশ" বলে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন।এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন কলেজছাত্র মুসা।তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শরণখোলা থানার ওসি রোকেয়া খানম। তিনি বলেন, রবিবার বিকেল ৫টায় ইলিয়াস তালুকদারকে ১৮ পিস ইয়াবা, ২০০ গ্রাম গাঁজা ও ২৯ হাজার টাকাসহ আটক করা হয়। মুসাকে আমি ইয়াবা আনতে বলিনি। অপরাধী ধরতে কৌশল লাগে। তদন্ত হলেই সত্য বের হবে।বাগেরহাটের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, অভিযোগটি পেয়েছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স্থানীয়দের প্রশ্ন-মাদকবিরোধী অভিযানে সহায়তা করলে যদি ফাঁসির ভয় পেতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ আর পুলিশকে সাহায্য করবে কিভাবে?

মাদক কারবারি ধরিয়ে দিয়ে বিপাকে ছাত্র