নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় ১১০ কেভি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আনসার সদস্যদের জিম্মি করে শটগান লুটের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ও ডাকাত সর্দার মো. ফারুক হোসেন ওরফে ‘আইস ফারুককে’ (৪০) গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তার কাছ থেকে লুণ্ঠিত একটি শটগান উদ্ধার করা হয়েছে। গত ২ জুলাই ভোর পৌনে ৫টার দিকে বন্দর থানাধীন হরিপুর এলাকার ১১০ কেভি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঘাট সংলগ্ন ডিউটি পোস্টে অতর্কিত হামলা চালায় ৫-৬ জনের একদল ডাকাত। ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে এসে তারা রামদা ও দেশি অস্ত্রের মুখে দুই আনসার সদস্যকে জিম্মি করে এবং ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তাদের ব্যবহৃত দুটি শটগান ছিনিয়ে নিয়ে কাঁচপুর অভিমুখে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় বন্দর থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেন প্লাটুন কমান্ডার মো. মনির মিয়া।ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশনায় মাঠে নামে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) তারেক আল মেহেদী ও ডিবি পুলিশের তত্ত্বাবধানে এবং ডিবি ‘খ’ জোন ইনচার্জ সাজ্জাদ করিম খানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকদিনব্যাপী রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালায়। অবশেষে রূপগঞ্জ থানাধীন বরাবো ছাপড়া মসজিদ এলাকা থেকে ডাকাত ফারুককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।কে এই ‘আইস ফারুক’?পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। ডাকাত সর্দার ফারুক একজন পেশাদার অপরাধী। তার বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় ডাকাতি ও চুরিসহ ১২টিরও বেশি মামলা রয়েছে। ফারুক ও তার চক্রটি মূলত শীতলক্ষ্যা নদীকে কেন্দ্র করে অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। মাদকাসক্ত এই চক্রটি নেশার টাকা যোগাড় ও ব্যক্তিগত খরচের জন্য নিয়মিত ডাকাতি করে আসছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।জেলা গোয়েন্দা শাখা সূত্রে জানা গেছে, লুণ্ঠিত অপর শটগানটি উদ্ধার এবং চক্রের পলাতক অন্য সদস্যদের গ্রেফতার করতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধী চক্রের সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ।