রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ONE NEWS EXPRESS

বর্ণাঢ্য আয়োজনে গোপালগঞ্জে লালন সাঁইজির ১৩৬তম তিরোধান দিবস পালিত

মরমী সাধক মহাত্মা লালন সাঁইজির ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, স্মারক আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে এই মহাসমারোহের আয়োজন করা হয়। বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক সমাজ গঠনে লালনের কালজয়ী দর্শনের তাৎপর্য উঠে আসে বক্তাদের বক্তব্যে। ​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আরিফ-উজ-জামান বলেন, "মহাত্মা লালন সাঁইজি ছিলেন অসাম্প্রদায়িকতা, প্রেম ও চিরন্তন মানবতার প্রতীক। তাঁর দর্শনে কোনো জাত-পাত, শ্রেণি বা ধর্মের ভেদাভেদ ছিল না; মানুষই ছিল তাঁর ভাবনার পরম কেন্দ্রবিন্দু।" ​তিনি আরও বলেন, "বর্তমান সময়ে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও বৈষম্যহীন মানবতাবাদী চেতনা ছড়িয়ে দিতে লালন চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। নতুন ও তরুণ প্রজন্মকে লালন সাঁইজির জীবন, শিল্প ও চিরন্তন সৃষ্টির সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে পরিচয় করিয়ে দিতে জেলা প্রশাসন নিয়মিতভাবে এ ধরনের উদ্যোগের পাশে থাকবে।" ​অনুষ্ঠানে 'লালন দর্শন ও তাঁর মানবতাবাদ' শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সালেহ। তিনি লালনের তত্ত্ব ও মানবতাবাদী ভাবনার গভীর বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। ​স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ তারেক সুলতান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী হুমায়ুন রশীদ। বক্তারা সমাজে ছড়িয়ে পড়া হানাহানি দূর করতে লালনের মানবতাবাদী দর্শন অনুশীলনের ওপর জোর দেন। ​শাহনাজ পারভীন শিলুর প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার ও প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী ফারহান কবীর সিফাতের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়ে পুরো আয়োজনটি এক নান্দনিক ও উৎসবমুখর মাত্রা লাভ করে। ​আলোচনা পর্ব শেষে এক সুরময় ও ভাবগম্ভীর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সুরের মূর্ছনায় দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন স্থানীয় ও আমন্ত্রিত শিল্পীরা। জেলা শিল্পকলা একাডেমি, জেলা শিশু একাডেমি, জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস), ত্রিবেনী গণ সাংস্কৃতিক সংস্থা, মৃদঙ্গ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ, বিশ্ববীণা সংগীত একাডেমি, গোপালগঞ্জ কালচারাল ক্যানভাস এবং জলসা ঘর সংগীত একাডেমির শিল্পীরা পর্যায়ক্রমে লালনগীতি পরিবেশন করেন। ​তাছাড়া একক সংগীত পরিবেশন করে দর্শক হৃদয় জয় করেন বিশিষ্ট শিল্পী মোঃ হাফিজুর রহমান শেখ, মমতা দাসী বাউল, সজীব দত্ত এবং শেখ সবুজ। ​অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাংস্কৃতিক অনুরাগী, লালন অনুরাগী দর্শক-শ্রোতা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সংস্কৃতিপ্রেমীরা আবহমান বাংলার সুফি-বাউল ঐতিহ্য ও লালনের মুক্তচিন্তাকে ছড়িয়ে দিতে প্রতি বছর জেলা পর্যায়ে আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজন করার জোর দাবি জানান।

বর্ণাঢ্য আয়োজনে গোপালগঞ্জে লালন সাঁইজির ১৩৬তম তিরোধান দিবস পালিত