নিজের নামে জমির দলিল আছে, খারিজও হয়েছে। কিন্তু সেই জমিতে গিয়ে দখল বুঝে নিতে ভয় পাচ্ছেন স্কুলশিক্ষিকা মোছাঃ নিলুফার ইয়াসমিন। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের হুমকির অভিযোগ তুলে নিরাপত্তা ও প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়েছেন তিনি।নিলুফার ইয়াসমিন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার জয়নগর পাওয়ার গ্রিড উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে তার বাড়ি।শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংবাদকর্মীদের কাছে নিজের অভিযোগ তুলে ধরেন এই শিক্ষিকা। এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, একজন শিক্ষক হয়েও নিজের বৈধ সম্পত্তি নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি।নিলুফার ইয়াসমিনের দাবি, আগের সরকারের সময় থেকেই স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের হুমকির কারণে নিজের নামে নিবন্ধিত ও খারিজ হওয়া জমি সরেজমিনে মেপে দখল বুঝে নিতে পারেননি।তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার রামচন্দ্রপুর এবং বাঘা উপজেলার আড়ানী মাস্টারপাড়া এলাকায় তার জমি রয়েছে। জমির মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র থাকার পরও নিরাপত্তার অভাবে সেখানে গিয়ে জমি মাপা ও দখল বুঝে নেওয়ার উদ্যোগ নিতে পারছেন না তিনি।নিরাপত্তাহীনতার প্রভাব পড়েছে তার কর্মজীবনেও। নিলুফার ইয়াসমিনের অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে তিনি কর্মস্থলে স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। বিদ্যালয়ে গিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার পর নিরাপত্তার কারণে সেখান থেকে চলে আসতে হচ্ছে।তিনি বলেন, ‘আমি একজন নারী ও শিক্ষক। রাষ্ট্রের কাছে আমার আবেদন—সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সার্বিক নিরাপত্তায় আমার চারঘাট ও বাঘা উপজেলার জমি সঠিকভাবে মেপে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।’নিজের জমির সীমানা নির্ধারণ, মেপে দখল বুঝে নেওয়া এবং নিরাপদে চলাফেরার সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন নিলুফার ইয়াসমিন।একই সঙ্গে কর্মস্থলে নিরাপদ পরিবেশে দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।