উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে নেকাব পরিহিত এক ছাত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর ও বৈষম্যমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে একাডেমিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ইংরেজি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের একটি ক্লাসে সম্প্রতি নেকাব পরিহিত এক ছাত্রীর পোশাক নিয়ে মন্তব্য করেন সহযোগী অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ মাহবুব। ক্লাস চলাকালে তিনি ওই ছাত্রীকে নেকাবের কারণে সামনের সারি থেকে উঠে পেছনে গিয়ে বসতে বলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই শিক্ষক নেকাব পরার ধরন নিয়েও মন্তব্য করেন। একপর্যায়ে তিনি নেকাবের কারণে নিজেকে ‘আনকমফোর্টেবল’ ও ‘আনসেইফ’ অনুভব করছেন এবং এতে তাঁর মনোযোগ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।এ সময় সুমি আক্তার নামের এক শিক্ষার্থী ওই ছাত্রীর নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী পর্দা করার অধিকারের পক্ষে কথা বলেন বলে জানা গেছে। এতে শিক্ষক ক্ষুব্ধ হয়ে ওই ছাত্রীকে কেন সমর্থন করা হচ্ছে—এমন প্রশ্ন করেন বলে অভিযোগ। একইসঙ্গে নেকাব পরিহিত ছাত্রীটি ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ বা ‘সন্ত্রাসী’ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি আরও কিছু আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে সহপাঠীদের অভিযোগ।ঘটনার পর ভুক্তভোগী ছাত্রীসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্লাস থেকে বের হয়ে যান। পরে অন্য শিক্ষার্থীরাও তাঁদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ওই ক্লাস বর্জন করেন বলে জানা গেছে।শিক্ষার্থীরা জানান, নেকাব পরিহিত ওই ছাত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে চার বছরের স্নাতক সম্পন্ন করে বর্তমানে মাস্টার্সের শেষ সেমিস্টারে পড়ছেন। এর আগে তিনি বিভাগের একাধিক ভাইভায় অংশ নিলেও কোনো পুরুষ শিক্ষক বা ভাইভা বোর্ড তাঁকে মুখ খোলার জন্য বাধ্য করেননি বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বিভাগের শিক্ষক অসীম দত্ত একবার ওই ছাত্রীর পর্দা বজায় রাখার সুযোগ দিতে ভাইভা বোর্ড থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন। ফলে একই বিভাগের আরেক শিক্ষকের সাম্প্রতিক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।এদিকে, শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক এর আগেও ক্লাসে ধর্ম, নেকাব ও শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা নিয়ে মন্তব্য করতেন। এমন আচরণে অনেক শিক্ষার্থী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন বলেও দাবি তাঁদের।ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাচের কোর্স থেকে ওই শিক্ষককে প্রত্যাহার এবং কোর্স পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে শুধু কোর্স পরিবর্তনের মাধ্যমে অভিযোগের নিষ্পত্তি না করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে উপযুক্ত একাডেমিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।শিক্ষার্থীদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ধর্মীয় পরিচয়, পোশাক বা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন অপমান বা বৈষম্যের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক তাসনীম সিরাজ মাহবুবের বক্তব্য জানা সম্ভব হলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।