উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নকল ও ভেজাল পণ্য প্রতিরোধ এবং ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য নিশ্চিত করতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের সভাকক্ষে এ কর্মশালার আয়োজন করে ফেয়ার গ্রুপ। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ জহিরুল ইসলাম।কর্মশালায় অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) সেবাস্টিন রেমা, পরিচালক (কার্যক্রম ও গবেষণাগার) আতিয়া সুলতানা, পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) মোঃ মাসুম আরেফিনসহ প্রধান কার্যালয়, ঢাকা বিভাগীয় ও ঢাকা জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএসটিআই, কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং ফেয়ার গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।কর্মশালার শুরুতে ফেয়ার গ্রুপের পরিচালক ড. মোঃ সেলিম রেজা স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও ভেজালমুক্ত পণ্য নিশ্চিত করা সরকারি ও বেসরকারি উভয় প্রতিষ্ঠানের অভিন্ন লক্ষ্য। ফেয়ার গ্রুপ ভোক্তাদের সর্বোচ্চ মানের ও ভেজালমুক্ত পণ্য সরবরাহে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।অধিদপ্তরের পরিচালক (কার্যক্রম ও গবেষণাগার) আতিয়া সুলতানা কর্মশালা আয়োজনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, নকল ও ভেজাল পণ্য প্রতিরোধের মাধ্যমে ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি জরুরি। আসল ও নকল পণ্যের পার্থক্য কীভাবে নির্ণয় করা যায়, সে বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক ধারণা দেওয়াই এ কর্মশালার অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।কর্মশালায় নকল পণ্য শনাক্তকরণ বিষয়ে পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন ফেয়ার গ্রুপের হেড অব মার্কেটিং জে. এম. তসলিম কবির এবং ফেয়ার ফুড অ্যান্ড লাইফস্টাইলের হেড অব বিজনেস মোঃ আব্দুস সালাম।প্রেজেন্টেশনে নকল বা Counterfeit Product শনাক্ত করার বিভিন্ন কৌশল, আসল ও নকল পণ্যের পার্থক্য এবং পণ্যের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন পণ্যের আসল ও নকল নমুনা হাতে-কলমে প্রদর্শন করে সেগুলো শনাক্ত করার পদ্ধতি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ফেয়ার গ্রুপের পণ্যের সাম্প্রতিক ডিজাইন, প্যাকেজিং, লেবেলিং ও অন্যান্য দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য সম্পর্কেও অংশগ্রহণকারীদের ধারণা দেওয়া হয়।কর্মশালায় অধিদপ্তরের পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) মোঃ মাসুম আরেফিন বলেন, ভোক্তাকে দ্রুত ও মানসম্মত সেবা দিতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সেবাব্যবস্থার নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। বিশেষ করে কোম্পানির কল সেন্টারগুলো যেন দ্রুত সেবা প্রদান করে, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহাপরিচালক মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, নকল ও ভেজাল পণ্য প্রতিরোধ এবং ভোক্তাদের নিরাপদ পণ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে উৎপাদনকারী, আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পারস্পরিক মতবিনিময় ও সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।তিনি বলেন, ভোক্তার অধিকার সুরক্ষায় নকল ও ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠান, আমদানিকারক, উৎপাদনকারী, ব্যবসায়ী ও ভোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি ভোক্তাবান্ধব বাজারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।মহাপরিচালক আরও বলেন, যেসব এলাকা বা বাজারে নকল ও ভেজাল পণ্য বেশি বিক্রি হচ্ছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিশেষ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। প্রয়োজনে এ ধরনের কার্যক্রমে সিটি কর্পোরেশন ও বিএসটিআইয়ের সহযোগিতা নেওয়া হবে।তিনি বলেন, ভোক্তাকে পণ্যের সঠিক ও প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া কোম্পানির দায়িত্ব। অন্যদিকে ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণ ও আইন বাস্তবায়ন সরকারের দায়িত্ব। পাশাপাশি ভোক্তাকেও নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে পণ্য কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে নকল ও ভেজাল পণ্যের বিস্তার রোধ করা সম্ভব।মহাপরিচালক বলেন, নকল ও ভেজালমুক্ত দেশ গড়ে তোলা এবং নিরাপদ পণ্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এককভাবে এ কাজে সফল হওয়া সম্ভব নয়; সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগেই কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন সম্ভব।পরে অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) সেবাস্টিন রেমা বলেন, কর্মশালার মাধ্যমে নকল ও ভেজাল পণ্য শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া গেছে। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে এ ধরনের পণ্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।কর্মশালায় পাওয়া মতামত ও পরামর্শ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। পরে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে কর্মশালার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।