উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির দুধ পান করে একটি বিদ্যালয়ের অন্তত ১৭ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। দুধ বিতরণের সময় কয়েকটি প্যাকেটে ফুটো এবং দুধে দইয়ের মতো জমাট ভাব দেখা গেলেও তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তবে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।অসুস্থ চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মনির হোসেন জানায়, দুধ পান করার পরপরই তার মাথা ও পেটে ব্যথা শুরু হয়। একপর্যায়ে সে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিল না। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।বিদ্যালয়ের শিক্ষক তসলিমা খাতুন বলেন, দুধ বিতরণের সময় কয়েকটি প্যাকেটে ফুটো এবং দুধে দইয়ের মতো জমাট ভাব দেখতে পান তারা। বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানানো হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ওই দুধ বিতরণ না করার জন্যও বলা হয়েছিল।তাঁর অভিযোগ, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন বিদ্যালয়ে এসে নিজে দুধ পান করেন এবং শিক্ষার্থীদেরও তা পান করতে বলেন। এরপর একে একে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করে। পরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. বিমন দেবনাথ বলেন, এখন পর্যন্ত ১৬ থেকে ১৭ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে এসেছে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। অনেকেই সুস্থ বোধ করছে। তবে সবাইকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিত সাহা বলেন, খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিয়েছেন। তাদের গুরুত্বের সঙ্গে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুধের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে।তিনি আরও বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে কারও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।