উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় এক স্কুলশিক্ষিকাকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে কবির শেখ নামের এক যুবককে বেধড়ক মারধর করেছে ভুক্তভোগীর স্বজনরা। গুরুতর আহত অবস্থায় কবিরকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করেন।সম্প্রতি উপজেলার কুশলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার কবির শেখ বিরামের কান্দি গ্রামের সরোয়ার শেখের ছেলে।স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ মাস ধরে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে ওই শিক্ষিকাকে প্রতিনিয়ত উত্ত্যক্ত করে আসছিল কবির শেখ। বিভিন্ন সময় পথরোধ করা এবং পানি ছিটিয়ে জামাকাপড় ভিজিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটাত সে। লাগাতার এই উত্ত্যক্তের কারণে অনেক সময় সামাজিক নিরাপত্তা ও ভয়ে বিদ্যালয়ে না গিয়ে ছুটিতে থাকতে বাধ্য হতেন ওই শিক্ষিকা।ভুক্তভোগী শিক্ষিকা জানান, "কবিরের উত্ত্যক্তের বিষয়টি প্রথমে তার পরিবার ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও তারা কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। ঘটনার দিন সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে কবির আবারও আমার পথরোধ করলে স্থানীয় স্বজনরা এগিয়ে এসে তাকে মারধর করে। তবে নির্দিষ্টভাবে কারা তাকে মেরেছে তা আমি বলতে পারব না।"প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখর রঞ্জন ভক্ত বলেন, "ওই শিক্ষিকা আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্যারের উপস্থিতিতে কবির ও তার পরিবারের সদস্যদের ডেকে এনে শুনানি করা হয়। সে সময় কবির আর কখনো ওই শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্ত করবে না মর্মে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।"অন্যদিকে আহত কবির শেখের ভাতিজি জোসনা বেগম জানান, "আমার চাচার কিছুটা মানসিক সমস্যা রয়েছে। আগে অটো চালানোর সময় ওই শিক্ষিকার সাথে তার পরিচয় হয়। এরপর থেকে তাকে বিয়ে করার জন্য চাচা পাগলামি শুরু করেন। তবে ঘটনা যাই হোক, তাকে এভাবে মেরে পঙ্গু করে দেওয়া ঠিক হয়নি।"এ বিষয়ে কোটালীপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুকুমার কুণ্ডু জানান, "ঘটনাটির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"