উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
পেটে তীব্র ক্ষুধা, অথচ পকেটে খাবার কেনার একটি টাকাও নেই—এমনই এক মানবেতর পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন নুর মোহাম্মদ নামের এক তরুণ শ্রমিক। ভাতের প্যাকেট ভেবে এক পথচারীর হাত থেকে খাবার কেড়ে নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু প্যাকেট খুলতেই বেরিয়ে আসে মিষ্টি! ক্ষুধার জ্বালায় তাৎক্ষণিকভাবে সেখান থেকে কয়েকটি মিষ্টি খেয়ে ফেললেও শেষ রক্ষা হয়নি। স্থানীয়দের মারধরের শিকার হয়ে পুলিশ ও আদালতের চক্করে পড়তে হয় তাঁকে। পরে আদালতের বিচারে ৫০ টাকা জরিমানা দিয়ে তিনি মুক্তি পান।ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বুধবার)।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নুর মোহাম্মদের বাড়ি নড়াইলে। তিনি বর্তমানে ঝিকরগাছা উপজেলার একটি কাঁচামালের আড়তে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কাজ শেষে তিনি যশোর রেলস্টেশনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তাঁর প্রচণ্ড ক্ষুধা পায়, কিন্তু খাবার কেনার মতো কোনো অর্থ তাঁর কাছে ছিল না। ঠিক সে সময়ই এক পথচারীকে হাতে খাবারের প্যাকেট নিয়ে হেঁটে যেতে দেখেন তিনি।তীব্র ক্ষুধার তাড়নায় সেটিকে ভাতের প্যাকেট মনে করে নুর মোহাম্মদ ওই পথচারীর নিকট থেকে প্যাকেটটি কেড়ে নেন। এরপর প্যাকেট খুলতেই দেখতে পান ভেতরে ভাত নয়, রয়েছে মিষ্টি। চরম ক্ষুধার্ত থাকায় তিনি লোভ সামলাতে না পেরে প্যাকেট থেকে কয়েকটি মিষ্টি খেয়ে ফেলেন।বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন জড়ো হন এবং ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে মারধর করেন। পরে তাঁকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।আজ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) পুলিশ নুর মোহাম্মদকে যশোর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সদর আমলি) আদালতে হাজির করে। আদালতের বিচারক মামলার শুনানি শেষে তাঁকে ৫০ টাকা জরিমানা করেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, পকেটে কোনো টাকা না থাকায় আদালতের নির্দেশিত জরিমানার অর্থ পরিশোধ করার মতো অবস্থাও ছিল না নুর মোহাম্মদের। বিষয়টি সেখানে উপস্থিত এক মানবিক ব্যক্তির নজরে এলে তিনি নুর মোহাম্মদকে সহায়তা করেন। পরবর্তীতে সেই অনুদানের টাকা থেকেই ৫০ টাকা জরিমানা পরিশোধ করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মুক্ত হন নুর।আদালতের জিআরও এসআই হেলালুজ্জামান গণমাধ্যমকে পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভাবের তাড়নায় ঘটা এই মানবিক ও ব্যতিক্রমী ঘটনাটি এলাকায় বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে।