উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
গোসল শেষে নদীর পাড়ে উঠছিলেন বৃদ্ধ শুভদ চন্দ্র গাইন। আর তখনই পানির ভেতর থেকে আচমকা ছুটে আসে একটি কুমির। মুহূর্তেই তাঁর শরীরে কামড় বসিয়ে পানির দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করে। প্রাণ বাঁচাতে তাঁর চিৎকারে ছুটে আসেন স্থানীয়রা। লাঠিসোটা নিয়ে তাড়া দিলে শেষ পর্যন্ত বৃদ্ধকে ছেড়ে গভীর পানিতে পালিয়ে যায় কুমিরটি।ভয়ংকর এ ঘটনা ঘটেছে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনার দাকোপ উপজেলার পশ্চিম ঢাংমারী নদীতে।কুমিরের আক্রমণে গুরুতর আহত শুভদ চন্দ্র গাইন স্থানীয় মৃত ঝড়বর গাইনের ছেলে। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত হয়েছে। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে বাড়ির পাশের পশ্চিম ঢাংমারী নদীতে গোসল করতে নামেন শুভদ চন্দ্র গাইন। গোসল শেষে নদীর পাড় বেয়ে ওপরে ওঠার সময় হঠাৎ পানির ভেতর থেকে একটি কুমির তাঁকে লক্ষ্য করে এগিয়ে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কুমিরটি তাঁকে কামড়ে ধরে এবং টেনে নদীর দিকে নেওয়ার চেষ্টা করে।এ সময় শুভদ চন্দ্রের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। স্থানীয়দের চিৎকার ও লাঠিসোটা নিয়ে তাড়া করার একপর্যায়ে কুমিরটি তাঁকে ছেড়ে দিয়ে নদীর গভীর পানিতে চলে যায়।পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা তাঁর শরীরে একাধিক জখমের কথা জানিয়েছেন। জরুরি চিকিৎসা ও ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ করার পর তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।এদিকে কুমিরের এমন আকস্মিক হামলার ঘটনায় পশ্চিম ঢাংমারীসহ নদীসংলগ্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সুন্দরবনঘেঁষা এ অঞ্চলের নদী ও খালে কুমিরের বিচরণ থাকায় গোসল, মাছ ধরা কিংবা নৌযাতায়াতে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নদীতে নামার আগে মানুষকে সতর্ক করার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কুমিরের উপস্থিতি সম্পর্কে সতর্কবার্তা প্রচার এবং নদীপাড়ের মানুষের নিরাপত্তায় বন বিভাগ ও প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।