উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
১৮ই সেপ্টেম্বর, আধুনিক কোচবিহার রাজ্যের রূপকার ও প্রজাহিতৈষী মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণ ভূপ বাহাদুরের মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯১১ সালের এই দিনে ইংল্যান্ডের বেক্সহিল-অন-সি (Bexhill-on-Sea) নামক স্থানে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।তাঁর এই প্রয়াণ দিবসে উত্তরবঙ্গ তথা তৎকালীন কোচবিহার রাজ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ দেবীগঞ্জের মানুষ গভীর শ্রদ্ধার সাথে তাঁকে স্মরণ করছে।শিক্ষা বিস্তারে মহারাজার অবদান ও দেবীগঞ্জ: মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণ কেবল একজন দক্ষ শাসকই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন শিক্ষা ও সংস্কৃতির এক মহান পৃষ্ঠপোষক। তাঁর দূরদর্শী চিন্তারই এক অনন্য নিদর্শন হয়ে আজো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জে অবস্থিত ঐতিহাসিক নৃপেন্দ্র নারায়ণ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (এন. এন. সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়)।তৎকালীন কোচবিহার রাজ্যের অধীনে থাকা দেবীগঞ্জ ও এর আশপাশের অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের প্রচেষ্টায় ১৯০৬ সালে এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। মহারাজার নামানুসারেই এর নামকরণ করা হয়। শিক্ষার মান ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে পরবর্তীতে বিদ্যালয়টি সরকারি করা হয় এবং এটি অত্র অঞ্চলের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ হিসেবে পরিচিত।আধুনিকতার রূপকার: ১৮৬৩ সালে মাত্র এক বছর বয়সে সিংহাসনে বসা নৃপেন্দ্র নারায়ণ পরবর্তীতে পূর্ণ ক্ষমতা হাতে পাওয়ার পর কোচবিহার রাজ্যে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনেন। তিনি আনন্দমতী ধরমতলা রাস্তা (বর্তমানে মহারানি ইন্দিরা দেবী রোড), রেলওয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং রাজপ্রাসাদ নির্মাণসহ বহু জনকল্যাণমূলক কাজ করেন। বিশেষ করে নারী শিক্ষা ও সাধারণ শিক্ষার প্রসারে তিনি যে ভূমিকা রেখে গেছেন, দেবীগঞ্জের এই বিদ্যালয়টি তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণের প্রয়াণ দিবসে দেবীগঞ্জের সাধারণ মানুষ ও বিদ্যালয়ের প্রাক্তন-বর্তমান শিক্ষার্থীরা তাঁর রেখে যাওয়া শিক্ষাবৃত্তির ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে। শিক্ষার আলো ছড়ানোর জন্য দেবীগঞ্জবাসী এই মহান রাজার অবদান চিরকাল কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ রাখবে।