উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সমসাময়িক বিষয়াবলির উপরে সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্স (সিআইপিজি) আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সিআইপিজির নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে ১২ সেপ্টেম্বর, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে অনুষ্ঠিত এ সভায় বক্তব্য রাখেন ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) মো. আবদুল বাতেন। বিচারক নিয়োগে দলীয় প্রভাবের সুযোগ থাকলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে এসময় তিনি মন্তব্য করেছেন। বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে কর্নেল (অব.) মো. আবদুল বাতেন বলেন, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর পরিবর্তে দলীয় প্রভাবযুক্ত সার্চ কমিটির মাধ্যমে বিচারক নিয়োগের সুযোগ থাকলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।একইসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রতিষ্ঠা করা বিচার বিভাগীয় সচিবালয় বাতিলের সিদ্ধান্তেরও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।এছাড়াও গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং মানবাধিকারসংক্রান্ত আইনের বিভিন্ন বিধান নিয়ে সমালোচনা করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এস এম শাহরিয়ার কবির।তিনি অভিযোগ করেন, এসব আইনের বিতর্কিত বিষয় থেকে জনদৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নিতে সম্পত্তি হস্তান্তরসংক্রান্ত আইন সামনে আনা হয়েছে। গুম ও মানবাধিকারসংক্রান্ত আইনের অস্পষ্ট বিধান ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সিআইপিজির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক। মূল প্রবন্ধে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড পিস স্টাডিজ (সিএসপিএস)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. মিজানুর রহমান বলেন, গত ছয় মাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রেমিট্যান্স ও রপ্তানিতে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে।তিনি বলেন, শুধু সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচক দিয়ে অর্থনৈতিক সাফল্য পরিমাপ করলে মানুষের বাস্তব পরিস্থিতি পুরোপুরি উঠে আসে না। মানুষের জীবনযাত্রায় কতটা স্বস্তি ফিরেছে, সেটিও অর্থনৈতিক সাফল্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হওয়া উচিত।গোলটেবিল আলোচনা থেকে সরকারের আগামী দিনের কার্যক্রমে মোট যে পাঁচটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়, সেগুলো হলো—১. মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ।২. মব সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও কঠোর ব্যবস্থা।৩. ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ।৪. যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি।৫. জুলাই চার্টার ও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সময়বদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক রোডম্যাপ প্রকাশ। বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দসহ আমন্ত্রিত অন্যান্য অতিথিবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।