উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মাদারীপুরের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র পুরানবাজারের ঐতিহাসিক রাজ্জাক হাওলাদার অ্যাকাডেমির শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন নোংরা পানি, মাছের বর্জ্য আর নাকে রুমাল গুঁজে বিদ্যালয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই চরম ভোগান্তি আর দুর্গন্ধে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে যেতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে, অনেকেই বাধ্য হয়ে ছেড়ে দিচ্ছে বিদ্যালয়।১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় আড়াইশত শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে, যাদের বড় একটি অংশ স্থানীয় শ্রমিক ও নিম্নআয়ের পরিবারের সন্তান। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশের মূল সড়কটির গা ঘেঁষেই রয়েছে মাছবাজার। বাজারটির টলঘরটি সড়ক থেকে উঁচু হওয়ায় মাছের নোংরা পানি ও ময়লা-আবর্জনা সরাসরি এসে জমে থাকে শিক্ষার্থীদের চলাচলের পথে। সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে তৈরি হয় জলাবদ্ধতা।দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসমিয়া আক্তার জানায়, "দুর্গন্ধে পথটুকু পার হওয়া যায় না। মাছের ময়লা পানিতে পা ফেলে স্কুলে ঢুকতে হয়। এই নোংরা পরিবেশের কারণে আমরা প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ছি।" আরেক শিক্ষার্থী নাহিদের মতে, পরিবেশের এমন অবনতির কারণে সহপাঠীদের অনেকেই দূরে অন্য কোনো স্কুলে ভর্তি হয়ে চলে যাচ্ছে।সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. হেমায়েত হোসেন বলেন, "স্কুলের মুখে মশা-মাছি আর রোগজীবাণুর রাজত্ব। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে।" প্রধান শিক্ষক মো. মাজহারুল ইসলাম হাওলাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, একাধিকবার বিভিন্ন জায়গায় ধর্না দিয়েও কোনো স্থায়ী প্রতিকার মেলেনি। তারা অবিলম্বে সড়কটি উঁচু করে পুনর্নির্মাণের দাবি জানান।মাদারীপুর মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি মো. মোসলেম মাতুব্বর পৌরসভার দিকে আঙুল তুলে বলেন, "পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এগিয়ে না এলে আমাদের তো কিছু করার নেই। আমরা আবারও তাদের কাছে বিষয়টি তুলব।"অন্যদিকে, মাদারীপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার আবু আহমেদ ফিরোজ ইলিয়াস জানান, সড়ক ও বাজারের উচ্চতার পার্থক্যের কারণেই মূলত এ সমস্যার সৃষ্টি। তবে ইতোমধ্যে ড্রেনসহ সড়ক সংস্কারের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। খুব দ্রুতই কাজ শুরু হবে এবং এই ভোগান্তির স্থায়ী অবসান ঘটবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।