উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুরে উচ্চফলনশীল ‘টপলেডি’ জাতের পেঁপে চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন স্থানীয় কৃষক নয়ন আলী। উপজেলার রহনপুর হ্যাঞ্জারপাড়া গ্রামের এই কৃষক ৫ বিঘা জমিতে সামিয়া এগ্রোর চারা রোপণ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। বর্তমান ফলন ও বাজারদর বজায় থাকলে এই বাগান থেকে অন্তত ৩০ লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন তিনি।জানা গেছে, পেয়ারা বাগানের মাঝের ফাঁকা জায়গায় কী চাষ করা যায়—এমন ভাবনায় নয়ন আলী পেঁপে চাষের সিদ্ধান্ত নেন। উন্নত চারা সংগ্রহের খোঁজে তিনি রহনপুরের বংপুরে অবস্থিত ‘সামিয়া এগ্রো’র কথা জানতে পারেন। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী শামীম রেজার কাছ থেকে বিশ্বস্ত মানের টপলেডি জাতের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করেন। সঠিক পরিচর্যা ও নার্সারির নিবিড় পরামর্শে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিটি গাছে এসেছে বাম্পার ফলন। মাটির কাছাকাছি অংশ থেকে শুরু করে গাছের মগডাল পর্যন্ত ঝুলে থাকা থোকা থোকা পেঁপে দেখতে প্রতিদিনই নয়ন আলীর বাগানে স্থানীয় উৎসুক জনতা ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা ভিড় জমাচ্ছেন।বাগানে আসা দর্শনার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, "একসাথে এত সুন্দর ও প্রচুর ফলনে ভরা পেঁপে বাগান আগে কখনো দেখিনি। নয়ন আলীর এই সাফল্য দেখে আমরাও বাণিজ্যিকভাবে পেঁপে চাষে আগ্রহী হচ্ছি।"নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে কৃষক নয়ন আলী বলেন, "ভাল চারা কোথায় পাবো তা নিয়ে দ্বিধায় ছিলাম। পরবর্তীতে সামিয়া এগ্রো থেকে টপলেডি জাতের চারা এনে রোপণ করি। আলহামদুল্লাহ, আল্লাহর রহমতে এখন বেশ ভালো ফলন হয়েছে। ৫ বিঘা জমির বাগান তৈরিতে যে খরচ হয়েছে, তার কয়েক গুণ বেশি লাভ হবে বলে আশা করছি। সব কিছু ঠিক থাকলে এই বাগান থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করতে পারব।"এ বিষয়ে সামিয়া এগ্রোর স্বত্বাধিকারী শামীম রেজা জানান, "আমরা সবসময় কৃষকদের উন্নত মানের ও ভেজালমুক্ত চারা সরবরাহ করার চেষ্টা করি। নয়ন আলী ভাই আমাদের ওপর বিশ্বাস রেখে সঠিক পরিচর্যা করেছেন বলেই আজ এই সাফল্য। আমাদের নার্সারিতে টপলেডি পেঁপের পাশাপাশি বারোমাসি সব ধরনের বিষমুক্ত উন্নত মানের সবজির চারা পাওয়া যাচ্ছে, যা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।"নয়ন আলীর এই সফলতা এবং বিষমুক্ত চারা উৎপাদনে সামিয়া এগ্রোর উদ্যোগ স্থানীয় অন্যান্য কৃষকদের মাঝে বাণিজ্যিক কৃষিতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।