উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
পদ্মা সেতুর পর বেড়েছে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব; নিরাপদ ও দ্রুত যাতায়াতে প্রয়োজন আধুনিক চার লেনের মহাসড়কভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি, পর্যটন ও বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পদ্মা সেতু চালুর পর রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগে নতুন গতি এলেও এ করিডোরের সড়ক অবকাঠামোকে ভবিষ্যতের যানবাহনের চাপ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই বাড়ছে।এই বাস্তবতায় ভাঙ্গা–বরিশাল–পটুয়াখালী–কুয়াকাটা মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার দাবি এখন সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি হিসেবে সামনে এসেছে।পদ্মা সেতুর পর বদলে গেছে যোগাযোগের চিত্রপদ্মা সেতু চালুর পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সড়ক যোগাযোগ অনেক সহজ হয়েছে। ভাঙ্গা হয়ে ফরিদপুর, বরিশাল ও পটুয়াখালীর দিকে যানবাহন চলাচলের সুযোগ বেড়েছে।একই সঙ্গে বেড়েছে দূরপাল্লার বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, পণ্যবাহী যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চাপ। ভবিষ্যতে দক্ষিণাঞ্চলে শিল্প, কৃষি, পর্যটন ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বাড়লে এ চাপ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।ফলে বর্তমান সড়ক অবকাঠামোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় একটি আধুনিক মহাসড়ক নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।কেন চার লেন প্রয়োজন?দুই লেনের সড়কে বিপরীতমুখী যানবাহন একই সড়কপথ ব্যবহার করে। ভারী যানবাহন, বাস ও ছোট গাড়ি একসঙ্গে চলাচল করায় অনেক সময় যানবাহনের গতি কমে যায়। কোনো দুর্ঘটনা বা গাড়ি বিকল হলে সৃষ্টি হতে পারে দীর্ঘ যানজট।চার লেনের সড়কে বিপরীতমুখী যানবাহনের জন্য পৃথক লেন থাকায় চলাচল তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও দ্রুত করা সম্ভব। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ যানবাহনের চাপ মোকাবিলার সক্ষমতাও বাড়ে।তবে শুধু চার লেন নির্মাণ করলেই হবে না। মহাসড়কের সঙ্গে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত সড়কবাতি, নিরাপদ ইউটার্ন, পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা, বাসস্টপ, জরুরি সেবা এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় কার্যকর নিরাপত্তা অবকাঠামোও নিশ্চিত করতে হবে।অর্থনীতিতে তৈরি হতে পারে নতুন গতিভাঙ্গা–বরিশাল–কুয়াকাটা করিডোরের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি, মৎস্য, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।উন্নত সড়ক যোগাযোগ থাকলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা কম সময়ে পণ্য পরিবহন করতে পারবেন। মাছসহ দ্রুত পচনশীল পণ্য দ্রুত দেশের বিভিন্ন বাজারে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এতে পরিবহন সময় ও ব্যয় কমার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।কুয়াকাটার পর্যটনে বাড়তে পারে সম্ভাবনাকুয়াকাটা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকদের একটি বড় অংশ সড়কপথে কুয়াকাটায় যাতায়াত করেন।নিরাপদ, প্রশস্ত ও দ্রুতগতির মহাসড়ক পর্যটকদের যাতায়াত আরও সহজ করতে পারে। পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানের ওপরও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।শুধু রাস্তা নয়, প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনাভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে শুধু রাস্তার প্রস্থ বাড়ানোর চিন্তা যথেষ্ট নয়। আগামী কয়েক দশকের যানবাহনের চাপ বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।সড়কের দুই পাশে অপরিকল্পিত স্থাপনা, বাজারকেন্দ্রিক যানজট, অবৈধ পার্কিং, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং পথচারীদের অনিরাপদ চলাচল—এসব বিষয়ও সমাধানের আওতায় আনতে হবে।একই সঙ্গে মহাসড়ক নির্মাণের সময় পরিবেশ, কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও স্থানীয় মানুষের স্বার্থের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।বাস্তবায়নেই এখন মূল চ্যালেঞ্জভাঙ্গা–বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়ক উন্নয়নের দাবি দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সময়ে এ সড়ককে চার বা ছয় লেনে উন্নীত করার দাবিও সামনে এসেছে।তবে বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়ন, ভূমি অধিগ্রহণ, প্রকল্প পরিকল্পনা, পরিবেশগত বিষয় এবং নির্মাণ ব্যবস্থাপনার মতো একাধিক বিষয় জড়িত থাকে। তাই বাস্তবায়নের আগে প্রয়োজন সঠিক সমীক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।দক্ষিণাঞ্চলের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই মহাসড়কভাঙ্গা–বরিশাল–কুয়াকাটা সড়ককে শুধু একটি আঞ্চলিক সড়ক হিসেবে দেখলে এর গুরুত্ব কম করে দেখা হবে। এটি দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ, পণ্য পরিবহন, পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ একটি করিডোর।তাই ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত একটি আধুনিক, নিরাপদ ও সক্ষম মহাসড়ক নির্মাণের বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত এখনই প্রয়োজন।ভাঙ্গা–কুয়াকাটা চার লেন সড়ক শুধু একটি যোগাযোগ প্রকল্প নয়; এটি হতে পারে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।
তথ্যসূত্র: প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রকল্পসংক্রান্ত তথ্য।