উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
অবৈধ তামাক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ এবং বৈধ বাজারকে উৎসাহিত করতে সিগারেটের আমদানি শুল্ক ৫০ শতাংশ কমিয়েছে মালদ্বীপ সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি প্যাকেট সিগারেটের আমদানি শুল্ক ৮ মালদ্বীপীয় রুফিয়া থেকে কমিয়ে ৪ রুফিয়া করা হয়েছে। সরকারের দাবি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর সঙ্গে আলোচনা এবং বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়নের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশটির অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী মুসা জামির পার্লামেন্টে জানান, সিগারেটের ওপর উচ্চ কর আরোপের ফলে প্রত্যাশিতভাবে ধূমপান কমেনি। বরং অনেক ধূমপায়ী বৈধ বাজার ছেড়ে অবৈধ সিগারেট ও বিকল্প তামাকজাত পণ্যের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এতে একদিকে সরকারের রাজস্ব কমেছে, অন্যদিকে অবৈধ তামাক বাণিজ্য আরও বিস্তৃত হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, আগের কর বৃদ্ধির কারণে বৈধ সিগারেটের খুচরা মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। কিন্তু এর ফলে ধূমপানের হার কমার পরিবর্তে অবৈধ বাজারের প্রসার ঘটে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় করনীতি পুনর্বিবেচনা করে আমদানি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং কর বৃদ্ধির স্বীকৃতিস্বরূপ মালদ্বীপ WHO World No Tobacco Day Award অর্জন করেছিল। তবে সেই স্বীকৃতির দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দেশটি কর কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সরকারের মতে, বৈধ ও অবৈধ সিগারেটের দামের ব্যবধান কমিয়ে আনতে পারলে ভোক্তারা আবার বৈধ ও নিয়ন্ত্রিত পণ্যের দিকে ফিরবেন। এতে যেমন সরকারের রাজস্ব বাড়বে, তেমনি অবৈধ বাজারের আকর্ষণও কমবে। তবে কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, শুধু কর কমানোই যথেষ্ট নয়; অবৈধ তামাক বাণিজ্য রোধে কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং ভারসাম্যপূর্ণ কর কাঠামো সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, মালদ্বীপের অভিজ্ঞতা দেখায় যে, শুধু কর বৃদ্ধি করলেই সবসময় তামাক ব্যবহার কমে না। যদি অবৈধ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে উচ্চ কর অনেক ক্ষেত্রেই কালোবাজারকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।মালদ্বীপই প্রথম দেশ নয়, যে অবৈধ তামাক বাণিজ্যের কারণে তাদের নীতি পুনর্বিবেচনা করেছে। ভুটানও দীর্ঘদিন কঠোর তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি অনুসরণ করলেও ব্যাপক চোরাচালান ও অবৈধ বিক্রির কারণে শেষ পর্যন্ত সেই নীতি শিথিল করতে বাধ্য হয়েছিল। এই অভিজ্ঞতাগুলো দেখায়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি অবৈধ বাজার নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর ও বাস্তবসম্মত নীতির প্রয়োজন।