উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
আশার আলোর আয়োজনে এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও বন্হিশিখার সহযোগিতায় শনিবার সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে "পিতৃতান্ত্রিক, ধর্মীয় ও রক্ষণশীল বাঁধা: নারীর শিক্ষা, নেতৃত্ব ও সামাজিক অংশগ্রহণে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে অন্তরায়" শীর্ষক একটি কমিউনিটি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংলাপে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, নারী নেত্রী, যুব প্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তর সিলেটের উপপরিচালক মো. আব্দুর রফিক, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহিনা আক্তার, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক রওশন আরা মুকুল, ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়ক মোহাম্মদ আরিফ, পুরোহিত ভূবনঞ্জয় চক্রবর্তী, আশার আলোর সভাপতি মাহফুজ আলম, সিলেট প্রেসবিটারিয়ান চার্চের রেভারেন্ড ডেভিড মনু দাস, এইচআরএলএএস-এর অ্যাডভোকেসি অফিসার বিচিত্রা রায় ও কো-অর্ডিনেটর সত্যজিৎ কুমার দাস, আরডব্লিউডিও-এর প্রকল্প সমন্বয়ক মো. জাহিদুল ইসলাম রশিদ, সাংবাদিক লোকমান হাফিজ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পাঠাগার ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মিতালী রানী দে, অ্যাডভোকেট হেনা বেগম, অ্যাডভোকেট ফারজানা হাবিব চৌধুরী, চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের ডিভিশনাল হেড অ্যাডভোকেট জয়শ্রী দাস জয়া, আরএইচস্টেপের মেন্টর তানজিনা বেগম, সাংবাদিক মো. আব্দুল হোসেন, এইচজেকেএস-এর সদস্য তাসনিয়া ফারিন, রহমানিয়া প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের সভাপতি আতাউর রহমান খান শামসু ও সহকারী সম্পাদক ফাহিম উদ্দিন আহমেদ, বিজেআইএস-এর সভাপতি মোহাম্মদ আহসান উদ্দিন, বন্ধু-এর প্রজেক্ট ম্যানেজার সাদিক আহমেদ, সন্ধি নারী সংঘের সভাপতি ফরিদা বেগম, সিলেট লেখিকা সংঘের সাহিত্য সম্পাদক পাপিয়া আহমেদ লিপি, আরডব্লিউডিও-এর শিক্ষক রেবা সিনহা, আশার আলোর সদস্য আবির খান, সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ মাসুক মিয়া, আদিবাসী নারী উন্নয়ন সংঘের সভাপতি বৃক্ষপালা পাত্র, আরএইচস্টেপের যুব অফিসার ফিলিপ সমাদ্দার, আশার আলোর সদস্য মো. আব্দুর রহমান ও শরিফ আহমেদ, সাংবাদিক স্বপন মালাকর শিবা এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. তোফাজ্জল হোসেন রাসেলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। সংলাপে বক্তারা বলেন, একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও উন্নত সমাজ গঠনে নারী ও পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। নারীর শিক্ষা, নেতৃত্ব বিকাশ, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এবং সকল অংশীজনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে পারস্পরিক সম্মান, ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা ও মানবিক আচরণে উদ্বুদ্ধ করে। তাই ধর্মকে বিভাজনের নয়, বরং সাম্য, শান্তি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যম হিসেবে চর্চা করতে হবে। পরিবার থেকেই নারী-পুরুষের সমঅধিকার, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা পিতৃতান্ত্রিক, ধর্মীয় ও রক্ষণশীল প্রতিবন্ধকতা দূর করে নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, নেতৃত্ব বিকাশ এবং সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সচেতনতা বৃদ্ধি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, সমতাভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।