উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা তথা নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে মতানৈক্যের জেরে ফের নতুন করে সংঘাত ও বিমান হামলায় জড়িয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিভিন্ন শহর ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো নতুন দফা বিমান হামলায় ৫৩ জন নিহত এবং ৫৯২ জন আহত হয়েছেন।ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ ও তথ্যকেন্দ্রের প্রধান হোসেইন কারমানপুরকে উদ্ধৃত করে মেহের নিউজ এজেন্সি এই হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে।সাম্প্রতিক হামলার ক্ষয়ক্ষতির চিত্রস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী:সময়সীমা: এই পরিসংখ্যানটি ২৭ জুন থেকে ২২ জুলাই স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সময়ের।নিহতদের তথ্য: নিহত ৫৩ জনের মধ্যে ৬ জন নারী এবং ১৮ বছরের কম বয়সী ৩ জন শিশু-কিশোর রয়েছেন।আহতদের তথ্য: আহত ৫৯২ জনের মধ্যে ৩৯ জন নারী ও ২৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।চিকিৎসা পরিস্থিতি: আহতদের মধ্যে ৫৩৫ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন, ৩৬ জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং ২১ জনকে ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে সামরিক সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে:মার্কিন বাহিনীর হামলা: মার্কিন বিমান বাহিনী ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন হামলার জবাবে ইরানও থেমে নেই। তারা কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সিরিয়ায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ভারী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে।সংঘাতের পটভূমি ও পূর্ববর্তী ঘটনাপ্রবাহচলমান এই উত্তেজনার সূত্রপাত চলতি বছরের শুরু থেকেই:জেনেভায় আলোচনা চলাকালেই ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী হামলা চালায়। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তারা নিহত হন।এর জবাবে ইরান পরবর্তী ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে প্রায় ১০০ দফা হামলা চালায়।পূর্বের হতাহতের পরিসংখ্যান: ইরানের লিগাল মেডিসিন অর্গানাইজেশনের প্রধান আব্বাস মাসজেদি জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে সংঘাতের প্রথম ধাপে ৩ হাজার ৩৭১ জন মারা যান (যার মধ্যে ২,৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী)।ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই দেশ বৈঠকে বসে। কিন্তু আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় ১৩ এপ্রিল থেকে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়, যা পরবর্তীতে আবারও প্রত্যক্ষ যুদ্ধে রূপ নেয়।