উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নেপাল সরকার নতুন নকশার ১ টাকার কয়েন চালুর অনুমোদন দিয়েছে, যা ভারত-নেপাল সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ। এই নতুন কয়েনে আর থাকবে না সেই বিতর্কিত রাজনৈতিক মানচিত্র, যেখানে লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ ও কালাপানিকে নেপালের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। এর পরিবর্তে কয়েনে স্থান পাচ্ছে নেপালের মুস্তাং জেলার ঐতিহাসিক লো গ্যাকার বৌদ্ধ মঠের ছবি।
২০২০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির নেতৃত্বাধীন সরকার এই নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র প্রকাশ করে। ওই মানচিত্রে লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ ও কালাপানিকে নেপালের ভূখণ্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই তিনটি অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ভারত ও নেপালের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ চলে আসছে, যেখানে উভয় দেশই অঞ্চলগুলোকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে।
নেপাল সরকারের সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্তকে অনেক বিশ্লেষক দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন ১ টাকার কয়েনে মুস্তাং জেলার মারাং গ্রামের প্রাচীন লো গ্যাকার মঠের ছবি ব্যবহার করা হবে, যা নেপালের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহাসিক বৌদ্ধ মঠ। তবে, আপাতত ২ টাকার কয়েনের নকশায় কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।
এদিকে, এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে নেপালের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ভীম রাওয়াল সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, "বিতর্কিত মানচিত্র সরিয়ে দেওয়া হলে তা দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রশ্নে নেতিবাচক বার্তা দেবে।" তিনি সরকারের কাছে এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করে এটিকে নেপালের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যা দেন।
অন্যদিকে, নেপাল রাষ্ট্র ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, নতুন নকশা প্রণয়নের মূল লক্ষ্য রাজনৈতিক নয়; বরং কয়েনের আকার, ওজন ও উৎপাদন ব্যয় কমানো। রাষ্ট্র ব্যাঙ্কের মুখপাত্র গুরু প্রসাদ পৌডেল জানান, নতুন ১ টাকার কয়েনের ওজন ৪ গ্রাম থেকে কমিয়ে ৩.২ গ্রাম এবং ২ টাকার কয়েনের ওজন ৫ গ্রাম থেকে কমিয়ে ৩.৮ গ্রাম করা হবে। কয়েন তৈরির উপাদানেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে; মিশ্র ধাতুর বদলে ইস্পাত ব্যবহার করা হবে, ফলে নতুন কয়েন হবে সাদাটে।
সব মিলিয়ে, নতুন ১ টাকার কয়েন থেকে বিতর্কিত মানচিত্র বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেপালের ভেতরে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিলেও, কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন এটি ভারত-নেপাল সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করতে পারে। যদিও এ সিদ্ধান্ত সীমান্ত বিরোধের আনুষ্ঠানিক সমাধান নয়, তবুও দুই দেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এর তাৎপর্য অস্বীকার করার সুযোগ নেই।