উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের একটি ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যাপক আলোচনার মুখে তিনি দাবি করেছেন, ভিডিওতে দেখা তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং তাদের বিয়ে গত ১৭ই জুন পারিবারিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, তারা বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বেআইনি কিছু প্রমাণিত হলে দল ব্যবস্থা নেবে।
ভিডিওটি সোমবার বিকেল থেকে ছড়িয়ে পড়লে প্রথমে গাজী নজরুলের সমর্থকরা এটিকে 'এআই ব্যবহার করে তৈরি' বলে প্রচার করে। তবে মঙ্গলবার সকাল নাগাদ কয়েকটি ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান ভিডিওটি এআই-নির্মিত নয় বলে দাবি করে। এরপর মঙ্গলবার বেলা ১২টা ০১ মিনিটে নিজের ফেসবুক পাতায় একটি বিবৃতি দেন গাজী নজরুল ইসলাম।
বিবৃতিতে এমপি নজরুল জানান, গত ১৭ই জুন তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার বাসভবনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। তিনি আরও দাবি করেন, গত ১৩ জুলাই, ২০২৬ ইং তারিখে তিনি তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার ব্যবসায়িক অফিসে যান। সেখানে অবস্থানকালে তার গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ বাইরে গিয়ে ৫-৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করে তাদের জিম্মি করে ১ লক্ষ টাকা আদায় করে।
গাজী নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে তাদের ভাড়াকৃত গাড়িও আটকে রেখে কয়েক লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। তিনি জানান, ওবায়দুল্লাহর সঙ্গে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মোঃ মাসুম বিল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। হিংসা ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ওবায়দুল্লাহ তাদের ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
আজ দুপুরের পর গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা দেন। সেখানে তিনি বলেন, "আমার স্বামী গাজী নজরুল ইসলামের সহিত মরিয়মের (দ্বিতীয় স্ত্রী) সাথে বিবাহ হয়েছে। যারা এটা নিয়ে কুৎসা রটাচ্ছে তীব্র প্রতিবাদ জানাই।" এরপর মুখে মাস্ক পরা অবস্থায় দ্বিতীয় স্ত্রী পরিচয় দিয়ে তরুণীটিও একটি ভিডিও বক্তব্য দেন, যেখানে তিনি ১৭ই জুন, ২০২৬ তারিখে তার বাবার বাড়িতে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার কথা নিশ্চিত করেন।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের দৃষ্টিতে এসেছে এবং তারা নজর রাখছেন। তিনি বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম যদি বেআইনি বা অবৈধ কিছু না করে থাকেন তবে এটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে যদি বেআইনি ও অবৈধ কিছু করে থাকেন, তবে জামায়াত দল হিসেবে ব্যবস্থা নেবে। সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আজিজুর রহমানও বলেছেন, তারা সাংগঠনিকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।
এদিকে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই তরুণীর একটি জীবন বৃত্তান্ত অনুযায়ী, তিনি ২০০৮ সালের ২২শে মে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং এতে তার বৈবাহিক অবস্থা 'অবিবাহিত' উল্লেখ রয়েছে। ওই জীবন বৃত্তান্তটি ২২শে জুন, ২০২৬ তারিখে গাজী নজরুলের 'জোর সুপারিশ করছি' স্বাক্ষর করা। অর্থাৎ, ১৭ই জুন বিয়ে হলে তরুণীর বয়স তখন ছিল ১৮ বছর ২৬ দিন। এই ঘটনার মধ্যেই গাজী নজরুলের মেয়েদের শালীনভাবে চলাফেরা ও মাথায় পর্দা রাখার পরামর্শ দেওয়া একটি পুরনো ভিডিও নতুন করে ভাইরাল হয়েছে।