উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ফাইনালের মঞ্চে লিওনেল মেসির পারফরম্যান্স নিয়ে সংখ্যাগত দিক থেকে প্রশ্ন উঠতেই পারে, কারণ অনেকেই হয়তো মনে করেন তিনি নিজের সেরাটা দিতে পারেননি। তবে ফুটবল কি শুধু গোল আর অ্যাসিস্টের খেলা? গতরাতে স্পেনের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে বলের দখল ও আক্রমণ তৈরিতে আধিপত্য দেখালেও আর্জেন্টাইন অধিনায়ক শেষ পর্যন্ত অসহায়ই ছিলেন।
মেসি বেশ কয়েকবার নিচে নেমে বল সংগ্রহ করে আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করেছেন এবং মাঝমাঠ ও আক্রমণের মাঝে সংযোগ তৈরির দায়িত্বও কাঁধে তুলে নেন। তবে রদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ ও রক্ষণভাগের নিবিড় মার্কিংয়ে আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা স্পেনের ফাঁদ ভেঙে বের হতে পারেননি।
যে কয়েকবার বল পেয়েছেন, সেগুলো থেকেও সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করলেও আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ স্পেনের সুসংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। ফলে গোল বা অ্যাসিস্ট—কোনোটিই তার নামের পাশে যোগ হয়নি, যা ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য শেষ ফাইনালকেও অপূর্ণতার গল্প করে রাখল। একজন ফুটবলারের নিজেকে মেলে ধরার সবচেয়ে বড় মঞ্চ এই ফাইনাল, যেখানে মেসি বারবার উঠেছেন।
তবে লিওনেল মেসি এমন একজন ফুটবলার, যাকে শুধু জয়-পরাজয়ের অঙ্কে মাপা যায় না। সংখ্যায় কিংবা পরিসংখ্যানে তাকে তুলনা করা যায় না, কারণ মেসি মানেই তো ফুটবলের পূর্ণতা, যেখানে কোনো গল্পের অভাব নেই।
সংখ্যার হিসাব বলছে, আন্তর্জাতিক ফুটবলের বড় ফাইনালে আর্জেন্টাইন মহাতারকা জয়ের চেয়ে হারই বেশি দেখেছেন। কিন্তু সেই সংখ্যাই কি পুরো গল্পটা বলে?
কোপা আমেরিকার পাঁচটি ফাইনাল খেলে মেসি দুটি শিরোপা জিতেছেন এবং তিনবার হারতে হয়েছে। বিশ্বকাপে তিনি তিনটি ফাইনাল খেলেছেন; ২০২২ সালে স্বপ্নপূরণ হলেও বাকি দু’বার ফিরতে হয়েছে শূন্য হাতে।
সব মিলিয়ে আটটি বড় আন্তর্জাতিক ফাইনালে মেসির শিরোপা তিনটি এবং পরাজয় পাঁচটি। এই আট ফাইনালে তার গোল মাত্র দুটি, কোনো অ্যাসিস্ট নেই। দুটি গোলই বিশ্বকাপের ফাইনালে এসেছে, যার একটি পেনাল্টি থেকে এবং অন্যটি ওপেন প্লে থেকে। পরিসংখ্যান বলছে, ফাইনালে তিনি নিজেকে কখনোই তেমন একটা মেলে ধরতে পারেননি।