উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে কিশোর জিহাদ মিয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু। রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা পৌনে ১১টা পর্যন্ত উপজেলার কুট্টাপাড়া মোড় এলাকায় এই কর্মসূচি পালিত হয়।
স্থানীয়রা সকাল ৯টার দিকে মাইকে ঘোষণা দিয়ে কুট্টাপাড়া মোড়ে জড়ো হয়ে মানববন্ধন শুরু করেন। পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে উভয় দিকের যান চলাচল বন্ধ করে দেন, যা তীব্র জনবিক্ষোভের রূপ নেয়।
এতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ৫ থেকে ৬ কিলোমিটারজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এর প্রভাব কুমিল্লা-সিলেট এবং সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কেও ছড়িয়ে পড়ে, ফলে হাজারো যাত্রী, চালক ও পথচারী চরম দুর্ভোগে পড়েন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম, সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া, সরাইল-খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসি আবু তাহের দেওয়ান এবং সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য আনোয়ার হোসেন মাস্টার। তারা দীর্ঘ সময় অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
পরে ইউএনও ও ওসি দ্রুত আসামিদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে অবরোধকারীরা মহাসড়ক ছেড়ে দেন। বেলা পৌনে ১১টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার হলেও দুপুর ১টা পর্যন্ত মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট অব্যাহত ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুলাই উপজেলা সদরের কুট্টাপাড়া গ্রামের আজগর আলীর ছেলে ১৫ বছর বয়সী জিহাদ মিয়াকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। এ ঘটনায় আজগর আলী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া জিহাদ মিয়ার মা সারিন বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি খুনিদের ফাঁসি চাই। আমরা গরিব ও অসহায় বলেই হয়তো আসামিদের ধরা হচ্ছে না।”
অবরোধে অংশ নেওয়া একাধিক নারী-পুরুষ সরকারের কাছে দ্রুত খুনিদের গ্রেফতারের দাবি জানান। তারা হুঁশিয়ারি দেন, দাবি পূরণ না হলে আবারও অনির্দিষ্টকালের জন্য মহাসড়ক অবরোধ করা হবে। সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, “কিশোর জিহাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আমরা অপরাধীদের চিহ্নিত করতে পেরেছি। নিরপরাধ কাউকে গ্রেফতার না করে প্রকৃত অপরাধীদেরই আইনের আওতায় আনা হবে।”