উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বাংলাদেশে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে কওমি ধারার রাজনৈতিক দলগুলোকে একজোট করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট থেকে কওমি দলগুলো বেরিয়ে যেতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। তবে এখনই জোট ছাড়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে দলগুলো।
সম্প্রতি হেফাজতে ইসলামের আমীর শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে কওমি ঘরানার সাতটি দলের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে জামায়াত ও বিএনপি জোটে থাকা বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী জানান, দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।
এই উদ্যোগকে জোট ভাঙার ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ অভিযোগ করেছেন, তাদের জোট থেকে কওমি ধারার দলগুলোকে বের করে নেওয়ার পেছনে বিএনপি ও সরকারের হাত রয়েছে। তবে জোটের শরিকরা শেষ পর্যন্ত তাদের সাথেই থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জামায়াতের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, রাজনীতিতে কৌশল ও নীতি অনুযায়ী অন্য দলকে কাছে টানার চেষ্টা করা কোনো চক্রান্ত নয়। যদি কোনো দল তাদের নীতি ও কৌশলের সাথে একমত হয়ে কাছে আসে, তবে তাতে কোনো গোপন বা অন্যায্য কিছু নেই।
এদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, তারা এখনো জামায়াত জোটেই আছেন এবং জোট ছাড়ার কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। তাদের বৈঠকটি ছিল নিজেদের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে ইস্যুভিত্তিক ঐক্যের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার একটি প্রক্রিয়া মাত্র।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর মনে করেন, কওমি ধারার দলগুলোর মধ্যে আদর্শিক ও চিন্তাগত পার্থক্য অত্যন্ত তীব্র। ফলে বহুভাগে বিভক্ত এই দলগুলোর ঐক্য প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত কতদূর সফল হবে এবং এর পেছনে কোনো মহলের ইন্ধন রয়েছে কি-না, তা স্পষ্ট হতে আরও সময় নেবে।