উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
দেশের নদ-নদীর পানি ক্রমশ বাড়ছে, বিশেষ করে তিস্তার পানি কোনো কোনো স্থানে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে গাইবান্ধা ও রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড। ভারতের আসামে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে বাংলাদেশের এসব এলাকার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, “তবে এ নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। কয়েকদিন পর পানি আবার নেমে যাবে।” তিনি আরও জানান, আগামী ২-৩ দিন সব নদ-নদীর পানি বাড়বে এবং তাতে নিম্নাঞ্চলে পানি উঠতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় ব্রক্ষ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি বাড়লেও এখনো বিপদসীমার নিচে আছে। তবে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় কিছু জায়গায় বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রবিউল ইসলাম বলেছেন, ভারতের বৃষ্টির কারণে তিস্তার পানি রংপুর ও কুড়িগ্রামে বাড়বে এবং এসব এলাকায় স্বল্পমেয়াদী বন্যার আশঙ্কা আছে। অন্যদিকে, সুরমা কুশিয়ারা অববাহিকায় কুশিয়ারা নদী সিলেট ও সুনামগঞ্জের দুটি জায়গায় বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এছাড়া, নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানিও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঢাকা ও এর চারপাশের ধলেশ্বরীর পানি বেড়েছে, তবে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও টঙ্গীখালের পানি আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকবে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ শনিবার থেকে পরবর্তী পাঁচদিন সারাদেশে বিভিন্ন মাত্রার বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। রংপুর বিভাগে কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এদিকে, দক্ষিণাঞ্চলের কিছু জেলার চরাঞ্চলে অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও হাটবাজার প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
চলতি মাসের শুরুতেই গাইবান্ধার চরাঞ্চলে একবার বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিল, যেখানে ব্রক্ষ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার উপরে চলে গিয়েছিল। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় ইতোমধ্যেই জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে জেলার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল হাসান বলেছেন, উজানে প্রবল বৃষ্টির কারণে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। তবে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি এবার বিপদসীমা অতিক্রম করবে না, তাই বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই।