উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানে ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ইরান দাবি করেছে, মধ্যাঞ্চলের ইয়াজদ শহর, কেশম দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালির পাশে বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ তাদের বেসামরিক স্থাপনায় হামলার ইঙ্গিত দেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা শুধুমাত্র সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
বিবিসি নিউজ ফার্সি দুটি ভিডিও যাচাই করেছে, যেখানে বন্দর আব্বাসের উত্তরে শহিদ মিরজাই জোড়া টানেল ও এর আশপাশে ক্ষয়ক্ষতি দেখা যায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাস্কের কাছে বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও লবণমুক্তকরণ পাম্পে হামলার কারণে ২০টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানীয় জল থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এছাড়া, উত্তর হরমোজগান প্রদেশে ১০০টিরও বেশি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার অচল হয়ে যাওয়ায় ল্যান্ডলাইন, মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হয়েছে।
এই হামলার জবাবে ইরান ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে জানিয়েছে। কুয়েত জানিয়েছে, তাদের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও একটি তেল স্থাপনায় হামলা হয়েছে। শুক্রবার ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দাবি করে, তারা কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান এবং প্রথমবারের মতো সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র অস্বীকার করেছে। তবে বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত সপ্তাহে জর্ডানে অবস্থিত দুটি ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় কয়েকজন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের "নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক সরবরাহ অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্র সংরক্ষণাগার এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার ওপর হামলা" চালিয়েছে। হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তারা "শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে"।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আবার শুরু হওয়ার পর নিহতদের মধ্যে পাঁচজন নারী এবং ১৮ বছরের কম বয়সী দুই শিশু ও কিশোর রয়েছে। আহতদের মধ্যে ৩২ জন নারী ও ১৮ জন কিশোর রয়েছেন এবং ৩৭ জন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। সেন্টকম জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি "শেষ" বলে ঘোষণা করার পর থেকে তারা টানা সপ্তম রাতের মতো বৃহস্পতিবার রাতে ইরানে হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় "যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও যুদ্ধজাহাজসহ অন্যান্য সামরিক সক্ষমতা" ব্যবহার করা হয়েছে।
জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল, যা মোটামুটি মেনে চলা হয়। তবে তেহরান পরে দাবি করে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের আগে জাহাজগুলোকে অনুমোদন নিতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছিল তারা। ওই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে এবং গত সপ্তাহে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার ঘোষণা দেন।
এরপর থেকে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করেছে। ইরান হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে, যার ফলে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন প্রায় থেমে গেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরোল বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে, জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা রাতে তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ইরানের ছোড়া ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে, তবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। বাহরাইনও দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের হামলা "ব্যর্থ করে দিয়েছে"। বিবিসি ভেরিফাই ও বিবিসি ফার্সি ইরানের হরমোজগান প্রদেশে গারিভেহ সেতুর ক্ষয়ক্ষতির ভিডিও যাচাই করেছে, যেখানে হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেছেন, তারা "ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের অধীনে নিজেদের সব প্রতিশ্রুতি স্থগিত" করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এই সমঝোতার অধীনে থাকা সব দায়বদ্ধতা লঙ্ঘন করেছে। এর আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, ইরান যদি আলোচনায় ফিরে না আসে তাহলে সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হবে।