উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
জর্ডানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুইজন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। শুক্রবার গভীর রাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, নিহতদের পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এই হামলার লক্ষ্য ছিল 'ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি বাহিনীকে দ্রুত শাস্তি দেওয়া'। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে টানা অষ্টম রাতের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের হুমকি কমানোই এই হামলার উদ্দেশ্য বলে সেন্টকম জানিয়েছে। এছাড়া, ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নতুন করে অবরোধ আরোপ করেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের 'বারবার চুক্তি লঙ্ঘন' নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য 'ভুলে যাওয়ার মতো নয় এমন শিক্ষা' অপেক্ষা করছে।
এই সংঘাতে মার্কিন নিহতের সংখ্যা এখন ১৬-তে পৌঁছেছে। এর আগে জর্ডানের সামরিক বাহিনী তাদের আকাশসীমায় ইরানের ছোড়া দশটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছিল। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার অভিযোগ করেছে।
ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল প্রায় থমকে দিয়েছে। অন্যদিকে, ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে কুয়েতে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) তেহরানের বিরুদ্ধে বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ এনেছে, যা 'যুদ্ধাপরাধ' হিসেবে গণ্য হতে পারে বলে জানিয়েছে। এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের 'অতিরিক্ত সতর্কতা' অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।