উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরীর বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে দেরিতে পৌঁছানোর জন্য একাধিকবার আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আবেগঘন মুহূর্তে স্থানীয় চাটগাঁইয়া আঞ্চলিক ভাষায় তিনি বলেন, "‘আঁই দেরি গরি আইস্সিদে, আঁরে মাফ গরি দিয়্য’" (অর্থাৎ, আমি দেরি করে এসেছি, আমাকে ক্ষমা করে দিন)।শনি ও শুক্রবার দুই দিনব্যাপী চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী, কাকারা, লক্ষ্যারচর, বরইতলী, পেকুয়া এবং মাতামুহুরী উপজেলার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন, ত্রাণ বিতরণ ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পর্যবেক্ষণকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন।পরিদর্শনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বন্যার শুরুতে তিনি রাষ্ট্রীয় জরুরি দায়িত্বে দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন, যার কারণে দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত ছুটে আসতে পারেননি। দেশে ফেরার পর জাতীয় সংসদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় চকরিয়া-পেকুয়ায় আসতে আরও কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে এই পুরো সময় জুড়ে সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পুরোদমে অব্যাহত ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।"আমি শারীরিকভাবে উপস্থিত না থাকলেও আপনাদের জন্য সহযোগিতা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম এক মুহূর্তের জন্যও থেমে ছিল না। কোথাও বিজিবি, কোথাও পুলিশ, কোথাও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, আবার কোথাও বেসরকারি সংস্থা এবং আমাদের দলীয় উদ্যোগে নিরবচ্ছিন্নভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। সবাই মিলে এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।"সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর এবং বরইতলী-পহরচাঁদা এলাকার মানুষের জন্য বন্যা নতুন কোনো ঘটনা নয়। এসব এলাকা মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী হওয়ায় প্রায় প্রতি বছরই পাহাড়ী ঢল ও বন্যার ঝুঁকি থাকে। তাই তিনি স্পষ্ট করেন যে, সাময়িক ত্রাণ বিতরণ কোনো স্থায়ী সমাধান নয়; বরং এলাকাগুলোকে বন্যামুক্ত করতে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। এ সময় স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে **কাকারা এলাকার বাইশ্যাছড়া খাল পুনঃখননের** জোরালো আশ্বাস দেন মন্ত্রী।বানভাসি মানুষের মনে সাহস জুগিয়ে তিনি বলেন, "আমরা জনগণের সরকার। যে কোনো দুর্যোগে আমরা অতীতেও জনগণের পাশে ছিলাম, এখনও আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি আমাদের দলীয়ভাবেও সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। এই দুর্যোগের মূহূর্তে কোনো নাগরিককে একা ফেলে রাখা হবে না।"দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি ও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান: ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার প্রকৃত চিত্র ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিখুঁতভাবে তুলে আনতে সরকারি উদ্যোগে দেশব্যাপী জরিপ পরিচালিত হচ্ছে। রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি, গবাদিপশু ও অন্যান্য খাতের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ শেষেই দ্রুত পুনর্বাসন ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।পরিদর্শনকালে স্থানীয় বাসিন্দারা মন্ত্রীর কাছে বারবার অনুরোধ জানান যে, তারা সাময়িক ত্রাণের চেয়ে মাতামুহুরী নদীতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং নদী ও খালগুলোর স্থায়ী সংস্কার চান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করে দ্রুত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন।এদিকে, শনিবার সকালে শামসুল হক ফাউন্ডেশনের বিশেষ উদ্যোগে পেকুয়া উপজেলায় বন্যায় ঘরবাড়ি হারানো ক্ষতিগ্রস্ত ২০টি পরিবারের মাঝে নতুন ঘর নির্মাণ সহায়তা ও প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি উপকরণ বিতরণ করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই মানবিক সহায়তা সামগ্রী উপকারভোগীদের হাতে তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।দুই দিনব্যাপী এই গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সদস্য এবং স্থানীয় রাজনৈতিক শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।