উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মার্কিন সিনেটররা রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে একটি সংশোধিত নিষেধাজ্ঞা বিল উত্থাপন করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনপুষ্ট এই বিলের অধীনে মস্কোর তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য মূলত চীন ও ভারত। ইন্ডিপেন্ডেন্ট’র খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের উদ্যোগে তৈরি এই বিলটি তার আকস্মিক মৃত্যুর পর নতুন রাজনৈতিক গতিবেগ পেয়েছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক উভয় দলের সিনেটররাই গ্রাহামের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে বিলটি দ্রুত পাস করতে চান। ট্রাম্প নিজেও বিলটির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, “এটি লিন্ডসের স্বপ্ন ছিল এবং এটি পাস হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।”
এই বিল অনুযায়ী, রাশিয়ার মোট প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির ১৫ শতাংশেরও কম আমদানি করে এমন দেশগুলোকে শুল্কের আওতা থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে, যা ইউরোপীয় দেশগুলোকে বিশেষ সুবিধা দেবে। গত বছর ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হলেও তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবে চলতি বছরের ১৭ জুন মার্কিন ট্রেজারির দেওয়া একটি সাময়িক ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বর্তমানে দিল্লির রুশ তেল কেনার বিষয়টি একটি আইনি জটিলতার মধ্যে পড়েছে।
নতুন এই বিলে শুধু শুল্ক আরোপই নয়, বরং রাশিয়ার প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, আর্থিক খাত এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত তাদের তথাকথিত ‘ছায়া বহর’কেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ডেমোক্রেটিক সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল জানান, দীর্ঘ ও জটিল আলোচনার পর এই সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইউক্রেন যুদ্ধ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারক দেশের তালিকায় রয়েছে চীন, ফ্রান্স, জাপান, হাঙ্গেরি এবং বেলজিয়াম। তবে ১৫ শতাংশের কম আমদানির নিয়মের কারণে চীন ছাড়া বাকি দেশগুলো এই শুল্কের হাত থেকে বেঁচে যাবে। অন্যদিকে, রুশ অপরিশোধিত তেলের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশ হলো চীন, ভারত, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি এবং আজারবাইজান।